ads

মঙ্গলবার , ২০ মে ২০১৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাণীনগরে মুক্ত জলাশয়-পুকুর ও নদীর তীর দখলের মহোত্সব : নজরে পড়ছে না কর্তৃপক্ষের

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ২০, ২০১৪ ২:৪৪ অপরাহ্ণ

Raninagar Dhokhol Pic.2সাইদুজ্জামান সাগর, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে দখলদারদের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মুক্ত জলাশয়, পুসকুনি এবং খাল-বিলের নালা ও নদীর তীর। দখলদারদের দখলক্ষুধার খাদ্য হিসাবে পরিণত হয়েছে গ্রাম-বাংলার চিরচিনা ছোট ছোট মুক্ত জলাশয় গুলো। পুসকুনি ও মুক্ত জলাশয় এখন শুধু নানি-দাদিদের কাল্পনিক গল্পতে পরিণত হয়েছে। ভূমি ও প্রশাসন কৃর্তপক্ষের নজর না থাকায় ও অবহেলায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অন্য দিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি ও দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষা নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতনমহল।

Shamol Bangla Ads

সরেজমিন উপজেলা ঘুরে ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছোট ছোট পুসকুনি ও মুক্ত জলাশয় গুলো মাত্র কয়েক বছর আগেই দখল মুক্ত ছিল। যেখানে গ্রাম-বাংলার মানুষ বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে সারা গ্রামে ঢল পিটিয়ে সবাই একসাথে উৎস মুখর পরিবেশে মাছ ধরত। আর এটায় গ্রাম-বাংলার মানুষের কাছে ছিল অন্যতম একটি ঐহিত্য । যা এখন শুধু স্মৃতি ও নানি-দাদিদের গল্পের ঝুড়ির অন্যতম একটি গল্প হিসাবে স্থান পেয়েছে। উপজেলার সিম্বা, খাগড়া, লোহাচূড়া, ছয়বাড়িয়া, গহেলাপুর, বড়িয়া, পালশা, বিলকৃষ্ণপুর, করজগ্রাম, কাশিমপুর, কুজাইল-বেতগাড়ী, গোনা, পারইল-বিষিয়া, বড়গাছা, খাসগড়সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের উজ্জল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, গফুর প্রাং, নুরুল ইসলাম জানান, কোন দখলদারের বাড়ির পার্শ্বে অথবা জমির পার্শ্বে যদি কোন ছোট মুক্ত জলাশয় অথবা খাল-বিলের নালা ও নদীর তীর থাকে তাহলেই সেটা মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করছে দখলদাররা। সরকারি কোন বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন, কাগজপত্র ছাড়াই এবং ভূমি অফিসের কোন নির্দেশ ছাড়াই দখল করা হচ্ছে এই সব সরকারি মুক্ত জলাশয় গুলো। দখলদাররা দিন দিন একটু একটু করে দখল করছে সরকারি সম্পত্তি। দেখার ও বলার যেন কেউ নেই। গ্রামের সচেতন ব্যক্তিরা আবেগপূর্বণ হয়ে দখলবাজদের উদ্দেশ্য করে বলছেন সরকারি সম্পত্তি দখল করা তাদের কাছে ফরয কাজ। রাণীনগর উপজেলার সব বদ্ধ জলাশয় গুলো বছরের নির্দিষ্ট সময় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে এজারা দিয়ে থাকে সরকার। আর ছোট মুক্ত জলাশয় ও পুসকুনি গুলো গ্রামের সাধারণ মানুষদের এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ব্যবহারের জন্য সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগে সদ ব্যবহার করছেন স্থাণীয় দখলদাররা। উপজেলার দখল হওয়া সরকারি সম্পত্তির প্রতি কৃর্তপক্ষের কোন নজর নেই। আর এই অবহেলার কারণে সরকার যেমন কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে গ্রামের মানুষ হারাচ্ছে চিরচেনা ঐহিত্য ও পরিবেশ। বর্তমানে উপজেলায় পুসকুনি ও মুক্ত জলাশয় চোখে পড়া ভাগ্যের ব্যাপার। দখলদাররা সরকারের রাজস্ব ও গ্রামের সাধারণ মানুষের ঐহিত্য গ্রাস করার মহাৎসবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বলে জানালেন এলাকাবাসি।
এলাকাবাসি আরও জানান, এভাবে দখল চলতে থাকলে একসময় গ্রামের পুসকুনি ও মুক্ত জলাশয় গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া পানি নিস্কাশন ব্যাহত, দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত সহ সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাবে। তাই উপজেলার পুসকুনি, নদীর তীর, মুক্ত জলাশয় গুলো রক্ষার্থে কৃর্তপক্ষকে খুব জরুরি ভাবে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসি।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, উপজেলার সব গুলো বদ্ধ জলাশয় এবং একটি মুক্ত জলাশয় প্রতিবছর এজারা দেওয়া হয়। আর ছোট ছোট পুসকুনি ও মুক্ত জলাশয় গুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ব্যবহারের জন্য সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে উম্মুক্ত করে দেওয়া আছে। সে গুলো দখলের কোন সুযোগ নাই। তবে দখলের কোন অভিযোগ পেলে দখলদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!