ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে রোকেয়া বেগম (১৩) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বোবরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে গ্রামের রহমত আলীর কন্যা ও কালারুকা দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। বসতঘরের তীরের সাথে গলায় রশি পেছিয়ে আত্মহত্যা করে। বড় ভাই আলমগীর বহস্পতিবার রাতে তাকে মারধর করায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে।
ছাতকে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ

ছাতকে শিক্ষকদের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মাহমুদা সিদ্দিকা পান্না নামের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোনায়েম খান ও সাধারণ সম্পাদক মিছবাউজ্জামান শিলুসহ ৫শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বাক্ষরিত এ অভিযোগ গত ২৯এপ্রিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে দায়ের করা হয়। অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০এপ্রিল পীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাহমুদা সিদ্দিকা পান্না শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করে। এর আগে শিক্ষিকা পান্না ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে শিক্ষকদের সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন। শিক্ষিকা মাহমুদা সিদ্দিকা পান্না ৮এপ্রিল হতে ৫মে পর্যন্ত চিকিৎসা ছুটিতে থাকাবস্থায় বিভিন্নস্থানে অবাধে ঘুরাফেরা করে শিক্ষা বিভাগের মান-মর্যাদা ভুলণ্ঠিত করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে এ আবেদন করেন তারা।
মে দিবস উপলক্ষে ছাতকে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের র্যালী ও সভা
ছাতকে মে দিবস উপলক্ষে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ছাতক শাখার উদ্যোগে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হোটেল শ্রমিক নেতা উৎপল তালুকদারের সভাপতিত্বে ও এমএসটি শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সদস্য ও জাতীয় ছাত্রদল শাবি শাখার সাবেক সভাপতি প্রদীপ দত্ত। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনসার আলী, হোটেল শ্রমিক নেতা কামরুল হাসান, আব্দুস সোবহান, সুহেল আহমদ, সুলেমান সরকার, নৌযান শ্রমিক নেতা ড্রাইভার রুবেল মিয়া, মাস্টার মুরশেদ আলম, সালমান মিয়া, বাবলু মিয়া, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সভা শেষে পৌর শহরে একটি র্যালী বের করা হয়।

ছাতকে মির্জাপুর সেতু নির্মাণে অনিয়ম ভিন্ন-ভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে বিভ্রান্ত এলাকাবাসী
ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নোয়াখালের উপর নির্মাণাধিন সেতুর অনিয়ম তদন্তে বিভ্রান্ত এলাকাবাসী। সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত করতে আসা কর্মকর্তাদের দেয়া রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়েছে এলাকাবাসী। কখনো সেতু ভেঙ্গে নতুন করে গড়া, আবার কিছু অংশ ভেঙ্গে সেতু নির্মাণ করা ও সর্বশেষ রিপোর্টে পাথর ধুয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। কর্মকর্তাদের ত্রি-মুখি রিপোর্টে সেতুর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন গ্রামবাসী। জানা যায়, ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থা মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ২৭লক্ষ টাকা ব্যয়ে নোয়া খালের উপর নির্মাণাধিন সেতুর কাজে অনিয়ম-দূর্নীতি ও কাজ নিæনামের হওয়ায় মির্জাপুর গ্রামবাসী গত ৯ফেব্র“য়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১১ফেব্র“য়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না ও তৎকালিন প্রকল্প কর্মকর্তা রফিক মিয়া (মৃত) সরজমিনে তদন্ত শেষে অত্যন্ত নিæমানের কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় ঠিকাদার সাইফুল আলমকে ৭দিনের মধ্যে সেতুটি সম্পূর্ন অপসারন করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর ডিজাইন ও ড্রইং অনুসারে নির্মাণ কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় ঠিকাচুক্তি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও বলেন তিনি। এদিকে ২২ফেব্র“য়ারি সেতু প্রকল্পের ডিপিডি তদন্তপূর্বক ফাউন্ডেশন ব্যাজ, উইং ওয়াল ও অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করে ত্র“টি পরিলক্ষিত হলে তা ভেঙ্গে নতুনভাবে করার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ডিপিডি’র দেয়া রিপোর্টে। ১২মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২য়বারের মতো পরিদর্শন শেষে সেতু ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ কাজ করার আবারো নির্দেশ দেন। ১৩মার্চ প্রকল্প কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সেতুর মাঝের অংশটি রেখে দুটি এবাটমেন্ট ওয়াল সম্পূর্নভাবে ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণের কথা বলেন। দু’কর্মকর্তার দেয়া দু’রকম রিপোর্টে তখনও গ্রামবাসী বিভ্রতবোধ করেছিল। সেতুর রিপোর্ট নিয়ে হতাশাগ্রস্থ গ্রামবাসী ২৭মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করলে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে বলে ইউএনও তখন তাদের আশ্বস্থ্য করেন। ৩য়দফা ও সর্বশেষ উপজেলা প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সমন্বয়ে ২সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরজমিন তদন্ত শেষে ২২এপ্রিল রিপোর্ট প্রদান করেন। পাথর ভালভাবে ধৌত করে, টপস্লাব ঢালাই করার পূর্বে, রড বাইন্ডিং দেখাতে এবং ঢালাই পরবর্তী কারিং স্পেসিফিকেশন মোতাবেক করতে হবে বলে রিপোর্টে উলেখ করে অতিসত্ত¡র কাজ সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভিন্ন-ভিন্ন রিপোর্টে দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। প্রথমে সেতু অপসারন করে নতুনভাবে নির্মাণ ও সর্বশেষ শুধুমাত্র পাথর ধুয়ে নির্মাণ কাজ করা এমন আকাশ-পাতাল পার্থক্য রেখে রিপোর্ট প্রদানকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।




