অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ৫০ শয্যার হাসপাতাল এখন ডাক্তার শূন্য। প্রশাসনিক কর্মকর্তার উদাসিনতার কারণে ডাক্তার না থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। দুই লাখেরও বেশী জনসংখ্যা অধ্যুষিত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার পশ্চিমাংশ, উজিরপুরের উপজেলার উত্তরাংশ ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাংশের তিন লক্ষাধিক জনগণ চিকিৎসা সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা (সাব-সেন্টার) সহ ডাক্তারদের ২৬টি মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে। তবে মঞ্জুরীকৃত ১৯টি ডাক্তারের পদ শূণ্য রয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউএইচএএফপিও ডা. মো. সেলিম মিয়াসহ ৫জন ডাক্তার বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। শূণ্য পদের মধ্যে রয়েছে একজন করে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেস্থেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু: নবসৃষ্ট), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি: নবসৃস্ট), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক), জুনিয়র কনসালটেন্ট (পেডিয়েট্রিক: শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম/যৌণ)। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. সুবল কৃষ্ণ কুন্ড, মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া সুরভী, ডেন্টাল সার্জন ডা. আরজু আক্তার, প্যাথলজিস্ট ডা. স্মীতা রায় নূপুর হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা (সাব-সেন্টার) কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী সার্জন (বাগধা পঃ কঃ কেন্দ্র) ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী সার্জন (গৈলা পঃ কঃ কেন্দ্র) ডা. মিলন কুমার গোমস্তা, সহকারী সার্জন (রতœপুর পঃ কঃ কেন্দ্র) ডা. মো. রাশেদ-উন-নবী। ডা. মো. মুশফিকুজ্জামান যোগদানের পর থেকে বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসে ডেপুটেশনে আছেন। ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিক ও জুনিয়ার কনসালটেন্ট ডা. সৈয়দ ইসরার কামাল যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তাররা দিনের বেশীরভাগ সময় নিজ নিজ চেম্বার নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকার ফলে রোগীশূণ্য হয়ে পরছে হাসপাতালটি। আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর কর্তৃক প্রদত্ত এক্স-রে মেশিন বিকল করে সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান হাসপাতালের সামনে অবস্থিত প্যাথলজি থেকে ফায়দা লুটলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। আর ফলশ্রæতিতে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা থেকে। এবিষয়ে ইউএইচএএফপিও ডা. মো. সেলিম মিয়া জানান, ডাক্তার সংকটের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




