পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ার উপজেলার চাষীকুল ভুট্টা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। চলতি বছর গত বছরের দ্বিগুন দুই হাজার ছয়শত পনের হেকটর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। সরকারী ভাবে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ১৪ হাজার ৬ শত ৭৫ মেট্রিকটন নির্ধারণ হয়েছে। যার গড় বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বছরে রবি ও খরিপ এই দুই মৌসুমে ভুট্টা চাষ হয়। ১৫ই মার্চের পূর্বে রোপনকৃত ভুট্টা রবি ও ১৫ই মার্চের পরে রোপনকৃত জমির ভুট্টা খরিপ মৌসুমের আওতায় পড়ে। উপজেলার পুঠিয়া, জিউপাড়া, বানেশ্বর বেলপুকুরিয়া, ভালুকগাছী ও শিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের চাষীদের মধ্যে ভুট্টা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। কারন ভ্ট্টুা চাষে তুলনা মূলক খরচ কম লাভ বেশী। তাছাড়া যে সকল উচ্চু জমিতে বোরো চাষে পানি ধরে রাখা যায় না, সে সকল জমিতে ভুট্টাচাষ করে কৃষক সফলতা পেয়েছে। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মঞ্জুর রহমান জানান, গত বছর পুঠিয়া উপজেলার এক হাজার চারশত পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার ৮ হাজার ৭ শত মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উচু জমিতে বোরো চাষ না করে কৃষক ভুট্টা চাষ করেছে। তা ছাড়া অনেক কৃষক আখের মূল্য অনাদায়ী থাকায় মুড়ি আখ ভেঙ্গে ভুট্টা চাষ করেছে। বর্তমানে রবি মৌসুমে ১১০০ হেক্টর জমি ও খরিপ মৌসুমে ১৬১৫ হেক্টর মোট ২৭১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। হেক্টরে গড় ফলন ৬ মেট্রিকটন হলে উৎপাদন দাড়াবে ১৫৬৯০ মেট্টিকটন। যার গড় বাজার মূল্য ৩১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা প্রায়। তিনি আরো বলেন ভুট্টার ময়দা রুটি, বিস্কুট তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে। ভুট্টার খৈ ও মুড়কী মানুষের মুখোরোচক খাবার। ভুট্টায় তেল লবন মেখে পুড়িয়ে খেতেও ভাল লাগে। বর্তমানে ভুট্টা মাছ ও গবাদী পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। উপজেলার পালোপাড়া গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলী জানালেন, তিনি ২ বিঘা জমির মুড়ি আখ ভেঙ্গে ভুট্টা চাষ করেছেন। তার মতে আখের মূল্য সময়মত পাওয়া যায় না। অপর দিকে ভুট্টা বাজারে নিলেই নগদ মূল্যে বিক্রি হয়। ধনঞ্জয়পাড়া গ্রামের কৃষক জমির উদ্দীন জানান, তিনি এ বছর ৪ বিঘা জমিতে রবি মৌসুমে ভ্ট্টুা চাষ করেছেন। ভাল ফলনে আশাবাদী। ভুট্টা চাষ পর জমিতে রোপা আমন চাষ করবেন। কানাইপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন, জানান তার ৬ বিঘা জমিতে আলু চাষ পর তিনি ভুট্টা রোপন করেছেন। ভ্ট্টুা তুলে জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করবেন।




