রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৯ কোটি টাকা ঘটতি রেখেই ফের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫১তম সিন্ডিকেটে ৬টি বিভাগে ২৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫টি বিভাগ ও ৪টি ই্নস্টিটিউটে বিজ্ঞাপিত ২৭০টি পদের বিপরীতে ৩৯৭ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হলো। এ নিয়োগের বেলায় মেধা তালিকায় থাকা বেশ কিছু মেধাবীদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক কমযোগ্য ও দলীয় পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ’৭৩ এর এ্যাক্ট লঙ্গন, বিভাগীয় সভাপতি ও প্ল্যানিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিষেদ্ধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনা এবং অর্থের বিনিময়ে শূন্য ও বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে তিনগুণ সংখ্যক দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়। তৎকালীন সোবহান প্রশাসন ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ২৩০ টি পদের বিপরীতে ৩৬৫ জন শিক্ষক নিয়োগ করেন। অধিকাংশ সিন্ডিকেটে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
এর পর ২০১৩ সালের প্রথম দিকে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন ক্ষমতা গ্রহনের পর দীর্ঘ দিন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে ফের এ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কারণে প্রায় ৭৯ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর এ জন্য শিক্ষকদের মহার্ঘ্যভাতা, বিভিন্ন পরীক্ষার ফিসহ বেশ কয়েটি খাতে বেতন দিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ৪৫১ তম সিন্ডিকেটে ৬টি বিভাগে মোট ২৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভাগ গুলোর মধ্যে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগে ৮জন, মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৭জন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ৩জন, অর্থনীতি বিভাগে ৩ জন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২জন এবং ইংরেজী বিভাগে ১জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগে একজন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। মনোবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে মেধা তালিকায় অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং শিক্ষা জীবনের চারটিতেই প্রথম শ্রেণী ডিগ্রী ধারীসহ বেশ কয়েকজন মেধাবীকে বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ বঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী জানান, আমরা অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ১ম থেকে ৩য় স্থান অধিকার করলেও শিক্ষক নিয়োগের বেলায় আমাদের বাদ দিয়ে যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা একাডেমিকভাবে কখনো আমাদের সমকক্ষতায় আসতে পারেনি। মেধাবীদের বাদ দিয়ে এভাবে দলীয় বিবেচনায় শ্ক্ষিক নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন রিসিভ করেননি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সম্পর্কে রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মু. এন্তাজুল হক বলেন, বর্তমান প্রশাসন খুবি স্বচ্ছ ভাবে দল-মত নির্বিশেষে মুষ্টি কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। গত সিন্ডিকেটে একটি বিভাগে যোগ্যতা সম্পূর্ন শিক্ষার্থী না পওয়ায় বিজ্ঞাপিত ৫ জনের স্থানে ৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অভিযোগ আসার কথা না। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা যাকে ভাল মনে করে তাকেই সিন্ডিকেট সদস্যদের অনুমদোনের মাধ্যেমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।




