এস এম জামাল. কুষ্টিয়া : সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এবার ‘চার নম্বর মীরজাফর’ বললেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ‘জিয়া বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে এমন বক্তব্যের বিপরীতে তিনি ওই কথা বলেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ও তারেক রহমানের সমালোচনাও করেন এই মন্ত্রী। দশম জাতীয় সংসদের রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। ইনু বলেন, “জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের চার নম্বর মীরজাফর। রাজাকার আমদানির মধ্য দিয়ে তিনি চার নম্বর মীরজাফর হয়েছেন। আর খালেদা জিয়া রাজাকারের মাতা। শয়তান কখনো পাগল হয় না, বদলায় না, ভুল স্বীকার করে না। মানুষ আর শয়তান কখনো মিটমাট করতে পারে না। ইয়াহইয়া, জিয়া ও খালেদা জিয়ার ভূমিকা শয়তানের ভূমিকা। তাদের সঙ্গে কখনো আপোষ করা যায় না।” তিনি ১১ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভোড়ামারা উপজেলার গোলাপনগরে হযরত সোলাইমান শাহ চিশতীর (রহ.) মাজার জিয়ারত ও বার্ষিক ওরশ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওইসব কথা বলেন।
অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য খালেদা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন’ দাবি করে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার মধ্যে একটা খারাপ উদ্দেশ্য লক্ষ্য করছি। এটা সিস্টেমেটিক পাগলামি। স্বাধীনতা দিবসে সবাই যখন জাতীয় সংগীত গাইলেন, তখন তিনি ঘরের পেছনে লুকিয়ে থাকলেন। সবাই যখন ইতিহাসকে মানতে চান, তিনি তখন ধামাচাপা দিতে চান। আসলে খালেদা জিয়া দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তিনি রাজাকারের অপকর্ম হালাল ও আড়াল করতে এমন করছেন।”
খালেদার সমালোচনা করে এ মন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়াকে জোর করে কেউ সংসদের বাইরে ফেলে দেয়নি। তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আলোচনার পথ মাড়াননি। তিনি অন্য কিছু চান, অন্য কিছু করেছেন। শেখ হাসিনার আন্তরিকতার জবাব খালেদা জিয়া নাশকতা দিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া নিজেই নিজেকে খরচের খাতায় নিয়ে গেছেন। এর খেসারত তিনি দিচ্ছেন। তার জন্য তওবা করতে হবে। জামায়াত ও জঙ্গিবাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। সামান্যতম ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, “অতিতে দুর্নীতিতে রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। মন্ত্রী হোক, নেতা হোক দুর্নীতির গন্ধ পেলেই দুদকের বারান্দায় যেতে হচ্ছে।” ইনু বলেন, “এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। এখানে হারার সুযোগ নেই। এখানে সন্ধির কোনো সুযোগ নেই। মুক্তিযোদ্ধারা মরে যেতে পারে, স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে না।”
এসময় জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন,কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রেজা, সহকারী কমিশনার সিরাজাম মুনিরাসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী ভেড়ামারা গোলাপনগরে হযরত সোলাইমান শাহ চিশতী (রাঃ) মাজার জিয়ারত শেষে মেলা পরিদর্শন করেন। বিকেলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্্র এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফীন, ধুবইল ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মামুন।




