ads

বুধবার , ৯ এপ্রিল ২০১৪ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বীরাঙ্গনা সন্যাসী রাণী : পথই যার ঠিকানা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
এপ্রিল ৯, ২০১৪ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

Sannasiনজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট (রাজশাহী) : ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের লালসার শিকার হয়ে যেসকল বাঙালি নারী ধর্ষিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু তাদের বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন; চারঘাটের সন্যাসী রাণী তাদেরই একজন।

Shamol Bangla Ads

পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে রাজশাহী জেলার চরঘাট উপজেলা সদরে মধ্যবিত্ত বনেদী পরেবারে সন্যাসীর জন্ম হয়। তার পিতা কিশোরী চন্দ্র সাহা এবং মা গংগা রাণী সাহা। দুই ভাই বোনের মধ্যে সন্যাসী রাণী ছোট। ৬০-এর দশকে বাবা মা ঘটা করে সন্যাসীর বিয়ে দেন স্থানীয় যতীন চন্দ্র সাহার সাথে। কিন্তু বিধি বাম বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যে এক সন্তান রেখে স্বামী মারা যান। সন্যাসীর সিঁথির সিঁদুর উঠে যায়। তিনি হয়ে পড়েন বিধবা। হিন্দু ধর্মের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তার আর বিয়ে করা হয়নি। একমাত্র সন্তান নারায়ণকে অবলম্বন করে তিনি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন।
আসে ১৯৭১ সাল। শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। ১৩ এপ্রিল পাক বাহিনী অতর্কিত চারঘাট আক্রমন করে। পাক বাহিনীর অবিরাম গুলি বর্ষণে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক ব্যক্তি শহীদ হন। তাদের মধ্যে সন্যাসীর বাবাও ছিলেন। এলাকার অনেক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হলে অধিকাংশ মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সন্যাসী রাণী বাবা ও স্বামীকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান হয়ে চারঘাটের মাটিতেই থেকে যান।
চারঘাটের বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। এদেশীয় দালালরা সারদা পুলিশ একাডেমী ক্যাম্পে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয় সন্যাসী রাণীকে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ নয় মাস নরপিশাচরা সন্যাসীর দেহ কুঁরে কুঁরে খায়। দেশ যখন স্বাধীন হলো সন্যাসী তখন অন্তঃসত্তা। ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সন্যাসী এক সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান দু’টির হদিস তার জানা নেই। সংসারে আপন বলতে তার কেউ নেই। এখন সন্যাসীর বয়স প্রায় ৯০ বছর। অসুস্থ কংকালসার দেহ। খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই। নিজের কোন জায়গা জমি বাড়ি ঘর নেই। মানুষের করুণা ভিক্ষা করে তিনি বেঁচে আছেন। সম্বল বলতে সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতা। কেউ তাকে ভালোবাসে আবার কেউ তাকে ‘পাগলী’ বলে নিষ্ঠুর রসিকতা করে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সন্যাসী রাণী রেগে গেলে চিৎকার করে গালিগালাজ করেন। সবাইকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন। সকাল থেকে রাত অবধি চারঘাট বাজারের পথে পথে আপন মনে ঘুরে বেড়ান। উপজেলা সদরে থানা রোডের পাশে একটি খুপড়ি ঘরে (কুঁড়ে ঘরে) জীবনের শেষ বেলায় এসে একাকি রাত কাটান বীরাঙ্গনা সন্যাসী রাণী।

Need Ads
error: কপি হবে না!