জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। দিগন্ত জুড়ে যেন সবুজের সমারোহ। কঁচি ধানের ডগায় বইছে চিকচিকে রোদের খেলা। বোরো জমিতে কৃষকরা পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধানকুনিয়া গ্রামের কৃষক ওসমান গনি বলেন, এবার বোরো আবাদের শুরুটা ভালো মনে হচ্ছে। চারা নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি। আবার সার সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে চাটমোহর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ১০০ হেক্টর। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ১০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছিল ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর। এবার ধানের আবাদ কমে যাওয়া ৩০০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।
সূত্র আরোও জানায়, জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো ধান রোপণের সময়। ধান কাটার সময় আসতে ১৬০ থেকে ১৮০ দিন সময় লাগে। এবার ব্রি-২৮-২৯-৫০ ও ভারতের মিনিকেট জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। আবাদে সেচকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ১ হাজার ৫০টি বৈদ্যুতিক মোটর, ১ হাজার ২৫০টি অগভীর নলকূপ ও ২২৬টি গভীর নলকূপ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (তথ্য) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কৃষকরা এখন পুরোদমে বোরো ধানের পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আমরাও অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মাঠে রয়েছি কৃষকদের পাশে, পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরোও জানান, ধান লাগানোর পরে বয়স ১৫ থেকে ৫৫ হওয়ার মধ্যেই ২/৩ দফায় ইউরিয়া সার দিতে হয়। এটাকে টপড্রেসিং (উপরি সার প্রয়োগ) বলা হয়। বিঘায় ৩০ কেজি ইউরিয়া সার টপড্রেসিংয়ের সময় দিতে হয়।
মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তারা বলেন, এবার প্রতিবিঘা বোরো আবাদে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। তিনি জানান, গড় ফলন বিঘায় ২০ মণ এবং ধানের মণ ৭০০ টাকা ধরে হিসাব করলে ১৪ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এছাড়া এক বিঘায় ২ হাজার টাকার খড় বিক্রি করা হয়ে থাকে। ফলে বিঘায় অনন্ত ৫ হাজার টাকা লাভ হবে কৃষকদের।
বিন্যাবাড়ী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বোরো ধানের আবাদে আগের মতো আর লাভ হয় না। তাই অনেকেই এবার গম আবাদ করেছিলেন। সার-জ্বালানি-কীটনাশক-লিবার সব জিনিসির দাম বেড়ে গেছে।
এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রওশন আলম বলেন, এবার সার সংকট নেই। বিএডিসি’র গুদামে ইউরিয়া সার মজুদ আছে। বিসিআইসি’র ১১ জন ডিলার গোটা উপজেলায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ইউনিয়নে ৯ জন সারের খুঁচরো ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ৬ টন হিসেবে ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৫০০ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।




