বাংলাদেশে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সাধারণত বজ্রপাত হয়ে থাকে; এ সময় যখনই ঘন কালো মেঘ করুক তখনই বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কালবৈশাখী ঝড় যতক্ষণ সক্রিয় থাকে, ততক্ষণ বজ্রপাতের উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করে। অর্থাৎ কালবৈশাখী সক্রিয় থাকলে বজ্রপাত বেড়ে যায়। তবে শীতকালে বজ্রপাত হয় না বললেই চলে, কারণ তখন আকাশে তেমন মেঘ তৈরি হয় না। আর সাধারণত জুন-জুলাইয়ে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হলে বজ্রপাত কমে যায়। কিন্তু চলতি জুন অন্য বছরের থেকে ব্যতিক্রম কেননা এ মাসের প্রথম দিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মানুষ ছাড়াও বজ্রপাতে প্রচুর গবাদি পশুও মারা যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নির্বিচারে গাছপালা নিধন, বাতাসে কার্বন-ধূলিকণার অসম্ভব আকারে বৃদ্ধি, মোবাইল টাওয়ারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে। তবে আমাদের দেশে বজ্রপাত বৃদ্ধির মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান। এর কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে তাল, সুপারী বটবৃক্ষের মতো উঁচু গাছের অভাব, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ধাতব দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট হওয়া, গাছপালা ধ্বংসের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি বজ্রপাতের হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১৭ মে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেভ দ্য সোসাইটি এ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ) এর দেয়া তথ্য মতে, দেশে ২০২০ সালে বজ্রপাতে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরে মার্চ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ঝরেছে ১৭৭টি প্রাণ।
বজ্রপাত বলতে আকাশে অত্যুজ্জ্বল আলোর ঝলকানিকে বুঝায়। এই সময় উক্ত এলাকার বাতাসের প্রসারণ এবং সংকোচনের ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এ ধরনের বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যেও হতে পারে। অবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুম বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ অতিক্রম করে পরবর্তী মৌসুমগুলোতে শীতের আগ পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গেই গরম বাতাসে জলীয়বাষ্প ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মেঘের ভেতরে প্রবেশ করে। এই জলীয়বাষ্প যত বেশি পরিমাণে উৎপন্ন হবে মেঘের উষ্ণায়ন ক্ষমতাও অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে জ্যামিতিক হারে মেঘের সৃষ্টি হবে। বাতাসের এই প্রক্রিয়া উপর ও নীচে দুইভাবে চলতে থাকে। আপ ড্রাফ হলো মেঘের উপরের স্তর এবং ডাউন ড্রাফ মেঘের মধ্যম ও নীচের স্তর; এই মেঘই হলো বজ্রমেঘ। এই দুই মেঘের মধ্যে বৈদ্যুতিক পজিটিভ ও নেগেটিভ বিকিরণে প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যালেন্স (ভারসাম্য) আনার চেষ্টা হয়। পজিটিভ ও নেগেটিভ মেঘ একত্রিত হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চারনে বাতাসের তাপমাত্রা ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পরিণত হয়। মেঘের অভ্যন্তরে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস সম্প্রসারিত হয়ে ভয়াবহ কম্পনে গর্জে ওঠে মেঘ। শব্দের গতিবেগের চেয়ে আলোর গতিবেগ বেশি হওয়ায় আলোর ঝলক আগে দৃষ্টিতে আসে পরে প্রচণ্ড শব্দ অনুভূত হয়।

আবার যেহেতু বায়ুমন্ডলের উপরের অংশে নীচের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকে। এ কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে, নীচের দিক থেকে উপরের দিকে মেঘের প্রবাহ হয়; এ ধরণের মেঘকে থান্ডার ক্লাউড বলে। অন্যান্য মেঘের মতো এ মেঘেও ছোট ছোট পানির কণা থাকে। আর উপরে উঠতে উঠতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতে পানির পরিমাণ যখন ৫ মি.মি. এর বেশী হয়, তখন পানির অণুগুলো আর পারস্পরিক বন্ধন ধরে রাখতে পারে না। তখন এরা আলাদা হয়ে যায়। ফলে সেখানে বৈদ্যুতিক আধানের সৃষ্টি হয়। আর এ আধানের মান নীচের অংশের চেয়ে বেশী হয়। এরকম বিভব পার্থক্যের কারণেই উপর হতে নীচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন হয়। এ সময় আমরা আলোর ঝলকানি বা বজ্রপাত দেখতে পাই।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বজ্রপাতের তীব্রতা অত্যধিক হারে বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো ‘ইভেন্টের পার্টিকুলার ডে বা শর্ট পিরিয়ডে’ বেশি বজ্রপাত বৈশিষ্ট্য বেড়ে গেছে বলে। সাম্প্রতিককালে বজ্রপাতের এমন ঘটনাকে ‘শর্ট লিফট লাইটেনিং ফেনোমেনা’ বলা হয়- এটার ঘনঘটাই এখন বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আমেরিকার কেন্ট সেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশে অতিমাত্রায় বজ্রপাত হয়ে থাকে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বজ্রপাত ও দাবানলকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে থাকে এবং পরিবেশে এখন যে পরিমাণ কার্বন আছে তার যদি দ্বিগুন বৃদ্ধি ঘটে তা হলে বজ্রপাত ঘটবে ৩২ ভাগ। তাদের মতে, বায়ু দূষণের সাথে বজ্রপাতের সম্পর্ক খুব নিবিড়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাত অন্তত ১৫ শতাংশ এবং ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ৫০ শতাংশের বেশি বজ্রপাত হতে পারে। প্রকৃতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ক্রমাগতভাবেই বেড়ে চলেছে বিধায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেঘে মেঘে সংঘর্ষ বজ্রপাতকে ত্বরান্বিত করছে। আবার দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু এবং উত্তর হিমালয় থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের মিলনে বজ্রমেঘ, বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের সৃষ্টি হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে যা প্রমাণিত। অধিকাংশ গবেষকের মতে, বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের যৌগগুলোর পরিমাণ, তাপ শোষণ ও সাময়িক সংরক্ষণকারী গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বজ্রপাত বাড়া কিংবা কমার সম্পর্ক রয়েছে। দেশের উঁচু উঁচু গাছপালা হ্রাস পাওয়ায় বজ্রপাতের ঘটনা ত্বরান্বিত হচ্ছে।
ব্যাংককের রিজিওনাল ইন্টিগ্রেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক রিপোর্ট মতে, বজ্রপাতের বিষয়ে আগাম পূর্বাভাসের অভাব ও মানুষের অসচেতনতার কারণে ইদানিংকালে হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। বজ্রঝড় সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়। যখনই মহাশূন্যে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ (খাড়াভাবে সৃষ্টি হওয়া বিশাল আকৃতির পরিচালন মেঘ; যা থেকে শুধু বিদ্যুৎ চমকানো নয়, বজ্রপাত-দমকাসহ ঝড়ো হাওয়া-শিলাবৃষ্টি-ভারিবর্ষণ এমনকি টর্নেডোও সৃষ্টি হতে পারে) তৈরি হয় তখনই বজ্রঝড় হয়ে থাকে। বায়ুমণ্ডলে বাতাসের তাপমাত্রা ভূ-ভাগের উপরিভাগের তুলনায় কম থাকে। এ অবস্থায় বেশ গরম আবহাওয়া দ্রুত উপরে উঠে গেলে আর্দ্র বায়ুর সংস্পর্শ পায়। তখন গরম আবহাওয়া দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ায় প্রক্রিয়ার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। সেজন্য ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত শুরুর অন্তত আধা ঘন্টা সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে ভেনিজুয়েলা ও ব্রাজিলে। সেখানকার তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেশী। বজ্রপাতে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনের মৃত্যু হয়। আর মারা যাওয়াদের প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষক। আবহাওয়া অফিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, বর্তমান সময়ে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। খোলা আঙিনায় বা খোলা মাঠে কৃষকরা কাজ করতে যেয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করা উন্নত যন্ত্রপাতিই এর অন্যতম কারণ। বর্তমানে চাষাবাদের কাজে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির (ট্র্যাক্টর, উইডার, হারভেস্টার, মাড়াই-ঝাড়াই করার যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) ব্যবহার বেশি হয়। আর এই সব ধাতব পদার্থ দিয়ে নির্মিত যন্ত্রে বিদ্যুৎ আকর্ষিত হয়। সেই সঙ্গে ফাঁকা মাঠে কোনো উঁচু জায়গা না থাকায় মানুষের উপর বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বেশী। কেননা এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ ফসলি জমিতে বা হাওরাঞ্চলের কৃষি ক্ষেত-খামারে বড় ধরণের কোনো গাছ-গাছালী নেই। বজ্রপাতের ধর্ম হচ্ছে তা মাটিতে আঘাত হানার আগে সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি পায় সেখানে গিয়ে পড়ে। বৃক্ষহীন হাওড় এলাকায় বা ফসলি মাঠে কৃষকের শরীরই মাটির চেয়ে উঁচু থাকে এবং সেখানেই বজ্র পতিত হয়। তাই তাল-নারিকেল বা যে কোনো প্রকারের দ্রুত বর্ধনশীল গাছ রাস্তার পাশে রোপণ করার পাশাপাশি খোলা মাঠের আইলে এবং বিল-হাওড়ের মাঝখানের ভূমিতে রোপণ করলে বজ্রপাত অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এখন (মে-জুন) ঊর্ধ্বাকাশে প্রচুর জলীয় বাষ্প রয়েছে। এ সময় উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে শীতল বায়ুও ধাবমান। একদিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু আর অন্যদিক থেকে শীতল বায়ু- এমন পরিস্থিতিতে বজ্রপাতের ঘটনাই স্বাভাবিক, যা কয়েক ঘন্টার স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র রূপ ধারণ করে। সেই সঙ্গে এই সময় মৌসুমগত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও বজ্রপাতের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়; তাই এপ্রিল-জুনে বজ্রপাতের বড় ঘটনা ঘটে থাকে। তথ্য পর্যালোচনা করে ‘নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও কুমিল্লা’ মিলে দেশের মধ্যাঞ্চলকে ‘বজ্রপাতের হটস্পট’ বলে মনে করছেন দেশের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। মার্চ-এপ্রিল-মে মাস বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজের প্রবণতা থাকলেও মৌসুমগত কারণে মে-জুলাইয়েও তা বিস্তৃত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদগণ আশঙ্কা করছেন।
বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন হলেই অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন আবহাওয়াবিদগণ। বজ্রপাতের সময় মৃত্যু এড়াতে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেগুলো হলো:
১. বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নীচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে অবস্থান করা উচিত হবে না।
২. বজ্রপাতের সময় কেউ রাস্তায় চলাচলরত অবস্থায় থাকলে আশেপাশে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এবং যেদিকে বাজ পড়ার প্রবণতা বেশি সেদিকটা এড়িয়ে চলতে হবে।
৩. বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে কেউ থাকলে তাকে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল প্রবেশ করিয়ে নীচু হয়ে বসে পড়তে হবে।
৪. অনবরত বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়া যাবে না। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় কোনো পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারলে।
৫. বজ্রপাতের সময় কোনো অবস্থাতেই কংক্রিটের উপর শোয়া যাবে না বা দেয়ারের সঙ্গে হেলান দিয়ে থাকা যাবে না।
৬. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি এসময় একান্ত বের হতেই হয় তবে পা ঢাকা রাবারের জুতো পড়ে বের হতে হবে। রাবারের গামবুট এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করবে।
৭. বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে যাওয়া উচিত হবে না। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নীচে আশ্রয় নিতে হবে।
৮. বজ্রপাতের সময় বাইরে অনেক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করলে সবাইকে আলাদা হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে হবে।
৯. সাধারণতঃ উঁচু গাছপালা, মোবাইল টাওয়ার বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে; তাই এসব জায়গায় বা এর কাছাকাছি থাকা যাবে না। ফাঁকা জায়গায় কোনো যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।
১০. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই জানালার কাছাকাছি থাকা যাবে না। এসময় অবশ্যই জানালা বন্ধ রাখতে হবে এবং ঘরের ভিতরেই অবস্থান করতে হবে।
১১. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে ফেরার চেষ্টা করতে হবে এবং গাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত হবে না। এ সময় প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্মুখীন হলে সম্ভব হলে গাড়িটি কোনো গ্যারেজ বা পাকা ছাউনির নীচে নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
১২. ঝড়বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমাটাই স্বাভাবিক। তবে বাজ পড়া অব্যাহত থাকলে সে সময় রাস্তায় বের হওয়া কোনোক্রমেই উচিত নয়। কারণ এ সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। উপরন্তু কাছাকাছি কোথাও বাজ পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।
১৩. বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি এ সময় ল্যাণ্ডলাইন টেলিফোনও স্পর্শ করা যাবে না।
১৪. বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব ধরণের যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও এগুলো স্পর্শ করা যাবে না। বজ্রপাতের আবাস পেলেই আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এমনকি অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখতে হবে।
১৫. বজ্রপাতের সময় যে কোনো ধরণের খেলাধুলা থেকে শিশুদের বিরত রাখতে হবে এবং তারা যাতে এ সময় ঘরের ভিতরে অবস্থান করে তা নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক: কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক। ই-মেইল: dr.alim1978@gmail.com




