হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ দারিদ্রতার কষাঘাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিন চরপুমদী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা শামছুল হকের সংসার চলছে অতি কষ্টে। এসএসসি পরীক্ষা পাশ করেও কোন চাকুরী না পেয়ে অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।ছেলেরা হোটেলে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভিটেবাড়ী ছাড়া তাঁর সহায় সম্পদ বলতে কিছুই নেই। তিনি প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে অসুখ-বিসুখ নিয়ে কোন রকমে বেচেঁ আছেন।

সরেজমিনে তার নিজ বাড়িতে গেলে,৭১’র মুক্তিযুদ্ধা শামছুল যুদ্ধ জয়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধের সময় মাথার উপর দিয়ে কয়েকবার গুলি চললেও আল্লাহ রহমতে অল্পের জন্য বেঁচে যান। তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের তুরা নামকস্থানে যুদ্ধের প্রাথমিক ট্রেনিং ও মিত্রবাহিনীর ৬ নং বিহার রেজিমেন্টের এটম কোম্পানীর ৯৯ এপিও অধীনে উচ্চ ট্রেনিং গ্রহন করেন। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কোম্পানী কমান্ডার জিকে এবং গ্রæপ কমান্ডার পিএল আমাকে প্লাটুন কমান্ডার নিযুক্ত করে হালুয়াঘাট এলাকায় পাঠান।তিন দিক দিয়ে হালুয়াঘাট থানায় অবস্থানরত পাকবাহিনীকে আক্রমন করে নভেম্বর মাসের শেষ দিকে হালুয়াঘাট পাকসেনা মুক্ত করেন।এরই ধারাবাহিকতায় কংশ নদীর পূর্ব পাড়ে দূর্গাপুর,ময়মনসিংহ শহর,মুক্তাগাছা মুক্ত করেন।এরপর ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্প থেকে মিত্রবাহিনীর সাথে ১৬ ডিসেম্বর সকালে রেসকোর্স ময়দানে মিলিত হয়ে চূড়ান্ত বিজয়ে অংশ নেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সে সময় সরকারের কাছে ৭ শত ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলেন। কিন্তু তার সহযোদ্ধা অনেকেই বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় খেতাব পেলেও তিনি অজ্ঞাত করনে না পেয়ে মর্মপীড়ায় ভোগছেন। জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে তিনি রাষ্ট্রিয় খেতাব পাওয়ার আশায় বুক বেধেঁ আছেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভারতের এটম কোম্পানীর ৯৯ এপিও এর প্রশিক্ষন খাতার ক্রমিক নং-৩৯, মুক্তিবার্তা নং-০১১৭১৩০২৪৩, গেজেট নং-২৪৮৫, সার্টিফিকেট নং-৭৫৭৯২,স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ নং-৬৩৬৭৬। তবুও তিনি মৃত্যুর পূর্বে রাষ্ট্রীয় খেতাব পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।




