মজনু,রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত শাহজাহান ভূইয়া, বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম ফারুক খোকন ও মাহ্ফুজুর রহমান আকন্দের লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন রূপগঞ্জবাসী। এ লড়াইকে রূপগঞ্জবাসী গাজী, কাজী ও দীপুর লড়াই বলেই মনে করছেন।

এই তিন প্রভাবশালী প্রার্থীকে নিয়ে নিজ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের ময়দানে নেমে পড়েছেন। তিনজনই নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে লড়ছেন। বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ শাহজাহান ভঁ‚ইয়ার পক্ষে কোমর বেঁধে নেমেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজুর রহমান আকন্দের পক্ষে আর যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ভ‚ঁইয়া দীপু থানা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুক খোকনের পক্ষে আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। তিন প্রার্থীকে জয়ী করার লক্ষে তারা আধা জল খেয়েই মাঠে নেমেছেন। প্রায় প্রতিদিনই দলীয় ও নিজের অনুগত প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। আচরণ বিধির বেড়াজালে গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি প্রকাশ্যে মাঠে নেমে ভোট প্রার্থনা করতে না পারলেও রূপগঞ্জের বিভিন্ন সামজিক-সাংস্কৃতিক, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে শাহজাহান ভ‚ঁইয়ার ‘আনারস প্রতীকে’ ভোট প্রার্থনা করছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও তাকে জয়ী করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে বিএনপির দুই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে দুই প্রভাবশালী নেতা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীপু ভ‚ঁইয়া গোলাম ফারুক খোকনকে নিয়ে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে রূপগঞ্জের প্রায় প্রতিটি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে কাজী মনির সমর্থিত থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের পক্ষে ‘কাপ পিরিচ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে তার নিজের অনুসারী ও বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিন প্রার্থীকে জয়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজেদের অনুসারী, আত্মীয়-স্বজন, ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগাচ্ছেন। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করার পণ করেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বলে জানান কর্মী-সমর্থকরা। নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখা এবং দলীয় অবস্থান ঠিক রাখতে এই ৩ প্রার্থীর প্রচারণায় জমে উঠেছে রূপগঞ্জের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি থেকে দুই প্রার্থী থাকায় প্রচারণায় হাফ ছেড়েও কুল পাচ্ছেন না তারা। প্রার্থীদের ব্যাপক গণসংযোগে ভোটাররাও বেশ মজা পাচ্ছেন। কাউকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন না।
আশ্বস্ত করছেন প্রার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীপু ভ‚ঁইয়া সমর্থিত থানা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুক খোকনকে কেন্দ্রীয়ভাবে থানা যুবদলের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এ নিয়ে চলে অনেক নাটকীয় ঘটনা। একাধিকবার দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে মিটিং করেও একক প্রার্থী নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রে দীপু ভঁ‚ইয়ার প্রভাবশালী অবস্থান থাকার কারণে সর্বশেষ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন রূপগঞ্জের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে খালেদা জিয়ার নির্দেশে একাধিক তদন্ত টিম দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া রূপগঞ্জের প্রায় সব জায়গায় দীপু ভ‚ঁইয়া ও কাজী মনির বলয়ে বিভক্ত হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। ৩১ মার্চের নির্বাচনে নিজেদের প্রেস্টিজ ইস্যু বলে মনে করছেন তারা। সে কারণেই দীপু ভঁ‚ইয়া গোলাম ফারুক খোকনের পক্ষে আর কাজী মনির মাহ্ফুজুর রহমানের পক্ষে প্রচারণায় নামেন। উপজেলা নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির একক প্রার্থী নির্ধারণ হলেও হয়নি রূপগঞ্জে উপজেলায়। দুই প্রার্থীই প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জের বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত থাকলেও উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যৌথভাবে নির্বাচন করবেন এমনটাই আশা করেছিল দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। কিন্তু থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির কোন সমঝোতা ও যোগাযোগ না করেই ঢাকার
একটি হোটেলে বসে শুধু তার অনুসারীদের নিয়েই অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজুর রহমান আকন্দকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেন।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপতি দীপু ভঁ‚ইয়া ও তার সমর্থকরা তাদের সাথে কোন যোগাযোগ ও তাদের মতামত না নিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ায় রূপগঞ্জ থানা যুবদলের সভাপতি ও মুড়াপাড়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক খোকনকে নিয়ে মাঠে নামেন। এরপর থেকেই জমে উঠে বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতার প্রেস্টিজ ইস্যু নির্বাচন। তবে নির্বাচনে গণসংযোগে এগিয়ে আছেন দীপু ভূঁইয়া সমর্থিত গোলাম ফারুক খোকন। ১৩ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই দীপু ভ‚ঁইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল, ওলামাদলসহ অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় শীর্ষ নেতাকর্মীই দীপু ভ‚ঁইয়ার গোলাকান্দাইলের বাড়িতে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রায় কয়েকশ’[ নেতাকর্মী একযোগে ভূলতা, গোলাকান্দাইল ও গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এরপর থেকে অভিরাম গতিতে চলছে নির্বাচনী প্রচার। প্রতিদিন দীপু ভঁ‚ইয়াসহ তার অনুসারী বিএনপির নেতাকর্মীরা গোলাম ফারুক খোকনকে সাথে নিয়ে রূপগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। জয় নিশ্চিত করতে বিভিন্নভাবে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। অপরদিকে থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির সমর্থিত থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজুর রহমান আকন্দকে নিয়ে প্রতীক বরাদ্দের দুইদিন পর ‘কাপ পিরিচ’ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে মাঠে নামেন। কাজী মনিরও তার অনুসারীদের নিয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নিজের অনুসারী প্রার্থীকে জয়ী করতে অর্থবিত্ত, শ্রম ও নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এদিক থেকে বসে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। বিভিন্ন নাটকীয়তার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশে দীর্ঘ কয়েক বছরের দ্ব›েদ্বর অবসান ঘটিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করছেন। তারাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভ‚ঁইয়ার পক্ষে ‘আনারস প্রতীকে’ ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের প্রায় সব নেতাকর্মীই আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান ভঁ‚ইয়াকে জয়ী করতে রূপগঞ্জের আনাচে কানাচে ভোট প্রার্থনা করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। নির্বাচন আচরণ বিধির কারণে রূপগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক ) শাহজাহান ভুঁইয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে না পারলেও প্রায় প্রতিদিন এলাকায় থেকে নেতাকর্মীসহ সবাইকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোন উপায়েই হোক সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কলাকৌশল এঁটে দিচ্ছেন।
রূপগঞ্জ আসনের এমপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হওয়ায় উপজেলা নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর জয় নিয়ে প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িছে এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীর প্রতীক)। অন্যদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী চূড়ান্তে উপজেলা নির্বাচনে নিজ নিজ প্রার্থীর জয় নির্ভর করছে। এ নির্বাচনে জয়ের মালা কার পক্ষে যায় তা দেখার অপেক্ষায় আছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ৩১ মার্চের নির্বাচনে শেষ হাসির অপেক্ষায় রূপগঞ্জবাসী। তবে এ উপজেলার নির্বাচন আসলেই তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর চেয়ে প্রেস্টিজ ইস্যু এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, কাজী মনিরুজ্জামান মনির ওমোস্তাফিজুর রহমান ভ‚ঁইয়া দীপুর।




