শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এসে একেবারেই ধসে পড়ল এশিয়া কাপের নবাগত দল আফগানিস্তান। অবশ্য সে ধসটা এসেছে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শ্রীলঙ্কার কাছে। স্বাগতিক বাংলাদেশকে ফতুল্লায় এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে হারিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল আফগানরা। কিন্তু পরের ম্যাচেই উজ্জীবিত আফগান শিবির পুরোপুরি মিইয়ে গেল। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ১২৯ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল টানা তিন জয় তুলে নেয়া শ্রীলঙ্কা। এর ফলে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগামী ৮ মার্চ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে লঙ্কানরা। বোনাস পয়েন্টসহ ম্যাচ জেতায় ৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সেরা দল হিসেবেই ফাইনালে উঠল লঙ্কানরা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তবে আগের ম্যাচের জয়ে উজ্জীবিত আফগান শিবির তাদের দুর্দান্ত বোলিং লাইনআপ নিয়ে চেপে ধরে লঙ্কানদের। দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারানো লঙ্কানদের একসময় ৩৭.২ ওভারে রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে মাত্র ১৫৮। এর মধ্যে অভিজ্ঞ কুমার সাঙ্গাকারার অবদানই ১০২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬। অবশ্য ব্যক্তিগত ৬২ রানের সময় সহজ একটি ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন যা ধরতে পারেননি দৌলত জাদরান। টানা চতুর্থ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ একটি ইনিংস খেললেন তিনি। এর মাঝে ভারতের বিরুদ্ধে ১০৩ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংসও ছিল। সনাথ জয়াসুরিয়ার পর দ্বিতীয় লঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ম্যাচে ফিফটির চেয়ে বড় ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি দ্বিতীয়বারের মতো। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে তাঁর পঞ্চাশোর্ধ (সেঞ্চুরি এবং হাফ সেঞ্চুরি মিলিয়ে) ইনিংসের সংখ্যা ১০৩টি। দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসের সঙ্গে এখন এ ক্ষেত্রে বিশ্বে তাঁর অবস্থান তিনে। সাঙ্গাকারা সাজঘরে ফেরার পর লঙ্কান ইনিংস বড় হয়েছে মূলত অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৪১ বলে ৪টি চারে ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে। শেষ দিকে আফগান বোলাররাও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। সর্বশেষ ৩ ওভারে ৪১ রান তুলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৩ রানের লড়াকু ইনিংস গড়ে লঙ্কানরা। মিরওয়াইজ আশরাফ ২৯ রানে দুটি উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে ডুবে যায় আফগানিস্তান। আর সেখানেই ফুটে ওঠে অনভিজ্ঞতা। আফগান শিবিরে যাঁরা সোমবারের ম্যাচ খেলেছেন, তাঁরা সবাই মিলে খেলেছেন মাত্র ২১১ ওয়ানডে, আর সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনে মিলে খেলেছেন ৭৭৭ ওয়ানডে। পেসার সুরাঙ্গা লাকমালের তোপ কাটিয়ে ওঠার পর লঙ্কান স্পিনারদের দাপটে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আফগান ইনিংস। মাত্র ৭৩ রানেই ৫ উইকেট হারায় তারা। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ছয় নম্বরে নেমে অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি ৪৩ বলে ৩ চারে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। এর পর আর অজন্তা মেন্ডিস ও চতুরঙ্গ ডি সিলভার স্পিন এবং থিসারা পেরেরার গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি কোন আফগান ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩৮.৪ ওভারে ১২৪ রানে। অজন্তা ও থিসারা তিনটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৫৩/৬ (কৌশল পেরেরা ৩৩, থিরিমান্নে ৫, সাঙ্গাকারা ৭৬, জয়াবর্ধনে ১৪, চান্দিমাল ২৬, ম্যাথিউস ৪৫*, ডি সিলভা ১৭, থিসারা ১৯*; আশরাফ ২/২৯, হামজা ১/৪৩, শাপুর ১/৪৬, দৌলত ১/৬০)
আফগানিস্তান: ৩৮.৪ ওভারে ১২৪ (শেহজাদ ৭, নূর আলী ২১, স্তানিকজাই ২৭, মঙ্গল ৪, সেনওয়ারি ৬, নবী ৩৭, নাজিবুল্লাহ ১১, আশরাফ ১, হামজা ১, দৌলত ০, শাপুর ০*; মেন্ডিস ৩/১১, থিসারা ৩/২৯, ডি সিলভা ২/২৯, লাকমল ২/৩০)
ম্যাচ সেরা: কুমার সাঙ্গাকারা।




