সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ কর্মী এজাহার আলী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত জামায়াত-বিএনপি দলীয় পাঁচ আসামীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রোববার তারা সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন জানালে বিচারক মোঃ শহীদুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করেন।
আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল¬ী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের আজিজার রহমান মোড়লের ছেলে জামায়াত কর্মী মুনসুর আলী মোড়ল (৫০), একই গ্রামের আজিত আলী মোড়লের ছেলে বিএনপি কর্মী আবুল খায়ের (৬০), তার ভাই পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত কর্মী আবুল কাশেম (৫২), আম্পে মোড়লের ছেলে আমতলা ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ইয়ারুল ইসলাম (৪৮) ও ইয়ারুল মোড়লের ছেলে শিবির কর্মী উজ্জল মোড়ল (২২)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের আমতলা- বাসাবাটি খেয়াঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাত শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী এজাহার আলী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই জমি জবরদখল করার জন্য জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান পিকলুসহ জামায়াত বিএনপি’র নেতা কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ইতিপূর্বে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দু’ বার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঐসব আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এরই জের ধরে গত ৭ ডিসেম্বর রাতে এজাহার আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে জামায়াত বিএনপি’র ওই সব নেতা কর্মীসহ ৩০/৩৫ জন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রেট্রোল ও গানপাউডার দিয়ে আগুণ ধরিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে দোকান থেকে বেরিয়ে এলে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে মৃতভাবে ফেলে রেখে যায় তারা। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহার আলী মারা যায়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তার ও পুলিশের উপস্থিতে মৃত্যুকালিন জবানবন্দিতে তিনি মিজানুর রহমান পিকলু, মুনসুর আলী মোড়ল, আবুল খায়ের, অঅবুল কাশেম, ইয়ারুল ইসলাম ও উজ্জলসহ ৩০/৩৫জন তাকে হত্যা করেছে বলে জানায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইসরাইল হোসেন বাদি হয়ে ৮ ডিসেম্বর রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ইয়াছিন আলী সম্প্রতি সুজন নামের এক শিবির কর্মীকে সন্দিগ্ধ আসামীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। উপরোক্ত পাঁচ আসামী গত ১০ ফেব্রæয়ারি হাইকোর্ট থেকে তিন সপ্তাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন নেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে রোববার তারা মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে। তবে এ মামলার প্রধান আসামী জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান পিকলু রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক পাঁচ আসামীর জামিন বাতিলের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে জানান, আগামিকাল সোমবার আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তিনি আরো জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতাল চলাকালে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।




