শ্যামলবাংলা ডেস্ক : হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশের আর একটা লজ্জাই বাকি ছিল। ক্রিকেট বিশ্বের নতুন বিস্ময় আফগানিস্তান সেটাই দিল স্বাগতিকদের। বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারিয়ে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। আর টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দেশের মাটিতে এই প্রথম সহযোগী কোন দেশের কাছে হারল বাংলাদেশ।

ফতুলার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের বদান্যতায় ৬ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে আফগানিস্তান। জবাবে ৪৭ ওভার ৫ বলে ২২২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও এনামুল হকের বিদায়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের সঙ্গে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ৬৮ রানের প্রতিরোধ ভাঙ্গে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। মোহাম্মদ নবীর বল লেগ স্ট্যাম্প মিস করবে মনে হলেও মুশফিককে বিদায় নিতে হয় এলবিডব্লিউ হয়ে। অর্ধশতকে পৌঁছে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মুমিনুল। পঞ্চম উইকেটে নাঈম ইসলামের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির হোসেন। ১, ৪, ১৪ ও ৩১ রানে চারবার জীবন পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নাসির। পয়েন্টে দেয়া পঞ্চম ক্যাচটি ধরে ১৪ ওভার ৩ বল স্থায়ী জুটি ভাঙ্গেন সলিমুলাহ সেনওয়ারি। পরের ওভারে এগিয়ে মারতে গিয়ে নাঈমের বিদায় দলের বিপদ আরও বাড়ায়। ঠিক পরের বলে অহেতুক রান-আউট হয়ে যান আব্দুর রাজ্জাক। এরপর আরাফাত সানির কট বিহাইন্ডে ভীষণ বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১৬১ থেকে ১৬৫ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৬৫ রানেই পড়ে ৩ উইকেট। তারপরও চেষ্টা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু ২২ বলে ৪১ রানের ইনিংসটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। আঙ্গুলে সেলাই নিয়েও ব্যাট করতে মাঠে নেমেছিলেন সোহাগ গাজী। কিন্তু প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হার এড়াতে পারেনি।
এর আগে ২৭তম ওভারে ৯০ রানে ৫ উইকেট পতনের পরও আফগানিস্তানকে কম রানে বেধে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। খাদের কিনারা থেকে দলকে লড়াইয়ের সংগ্রহ এনে দেয়ার কৃতিত্ব ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৮ বলে ১৬৪ রানের চমৎকার জুটি উপহার দেয়া আসগর স্তানিকজাই ও সলিমুলাহ সেনওয়ারির। ষষ্ঠ উইকেটে এটি এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ড ছিল সনাৎ জয়াসুরিয়া ও তিলকরতেœ দিলশানের। ২০০৪ সালের জুলাইয়ে কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ১০৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ষষ্ঠ উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। ওয়ানডেতে এটি আফগানিস্তানেরও সর্বোচ্চ রানের জুটি। শুরুতে দেখেশুনে ধীরমেজাজে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন স্তানিকজাই ও সেনওয়ারি। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ১০৭ রান যোগ করে আফগানিস্তান। যার ৬১ রানই আসে শেষ ৫ ওভারে। শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন বদলি ফিল্ডার ইমরুল কায়েসের হাতে দু’বার জীবন পাওয়া আসগর। তার ১০৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায়। এক বল বাকি থাকতে রান-আউট হয়ে বিদায় নেয়ার আগে ৮১ রান করেন সলিমুলাহ। তার ৬৯ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ১টি ছক্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৫৪/৬ (শেহজাদ ২, সাদিক ১২, নাজিবুলাহ ২১, আসগর ৯০*, মঙ্গল ২৪, নবী ৭, সলিমুলাহ ৮১, আশরাফ ০*; সোহাগ ২/৪৪, মুমিনুল ১/৩৮, রুবেল ১/৬১)
বাংলাদেশ: ৪৭.৫ ওভারে ২২২ (এনামুল ১, শামসুর ০, মুমিনুল ৫০, মুশফিক ২৩, নাসির ৪১, নাঈম ৩৫, জিয়া ৪১, রাজ্জাক ০, সানি ০, রুবেল ১৭, সোহাগ ২; নবী ৩/৪৪, হাসান ২/২৬, শাপুর ২/৩৯, সলিমুলাহ ১/২৩, আশরাফ ১/৫১)




