ads

বুধবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ছাতকে যাত্রীবাহী নৌকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ : আহত ২০, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

Chhatak Photo------3জাকির হোসেন, ছাতক (সুনামগঞ্জ) : যাত্রীবাহী নৌকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ছাতক-দোয়ারায় সুরমা নদীর দু’কুলে বইছে শোকের মাতম। স্বজন হারাদের আহাজারিতে সুরমা পাড়ের উভয় কুলের বাতাস এখন ভারি হয়ে উঠেছে। গভীর রাত থেকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যাচ্ছে প্রশাসনকে। তীব্র শৈতপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে স্থানীয় লোকজন চালিয়েছে রাতভর উদ্ধার কাজ ও জীবিতদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করে তারা। অগ্নিদগ্ধ নারী, পুরুষ ও শিশুর লাশ একের পর এক উদ্ধার হতে থাকে ঘটনাস্থল থেকে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সুরমা নদীর উভয়কুলে হাজারো জনতা ভীড় জমায়।
সোমবার রাত প্রায় ৮টায় সুরমা নদীর উত্তর পাড় ছাতকের বেতুরা ও দক্ষিণ পাড় দোয়ারার প্রতাবপুরের মাঝামাঝি স্থানে ঘটে যায় এক ভয়াবহ নৌ-দূর্ঘটনা। নৌকায় থাকা শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুদের আত্মচিৎকারে ভূকম্পিত হতে থাকে সুরমার দু’পাড়। ঘুম থেকে জেগে উঠে শ’শ’ গ্রামবাসী যাত্রীদের উদ্ধারে ঝাপিয়ে পড়ে। সোমবার কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ইটনাগামী ইঞ্জিন চালিত কাঠবডির নৌকা দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যায় ছাতকের কাষ্টমঘাট থেকে ছেড়ে যায়। রাত প্রায় ৮টায় বেতুরা ও প্রতাবপুর এলাকায় পৌছলে নৌকায় আকস্মিক এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। রান্না করা অবস্থায় পাম্পের চুলায় বিষ্ফোরণ ঘটলে নিচে থাকা ডিজেলের ট্যাঙ্কিতে আগুন ধরে যায়। ফলে মুহুর্তের মধ্যেই গোটা নৌকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নৌকায় ঘুমন্ত যাত্রীরা প্রাণ বাচাতে ঝাপিয়ে পড়তে থাকে নদীতে। যাত্রীদের আত্মচিৎকার ও আহাজারিতে দু’পাড়ের মানুষ ছুটে আসে নদীর পাড়ে। কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার রাতে সুরমা নদীতে বিশাল এক অগ্নিপিন্ড দেখে আতকে উঠে গ্রামবাসী। আগুন নেভাতে ও যাত্রীদের উদ্ধার করতে গ্রামবাসী ঝাঁপিয়ে পড়ে। অর্ধদগ্ধ অবস্থায় নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের আফিয়া (১৫), রফিকুল (১০), মুক্তা (৫) সহ ২০জনকে গ্রামবাসী উদ্ধার করে রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। এছাড়া জীবিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ গ্রামবাসীর আশ্রয়ে রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত শিশুসহ ১১টি দগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হলেও আরো অর্ধশতাধিক লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। অগ্নিদগ্ধ লাশগুলোর নারী-পুরুষ সনাক্ত করার কোন উপায় ছিলনা।
প্রাণে বেচে যাওয়া পুত্রহারা নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের ইয়াছমিন মিয়া (৫৮) জানান, হঠাৎ অগ্নিকান্ডের ঘটনা দেখে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকায় থাকা শিশুদের উদ্ধার করতে থাকি। ৬-৭জন শিশু উদ্ধার করলেও নিজ সন্তান তামিম (১১) কে উদ্ধার করতে পারেননি- এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। একই উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, একসঙ্গে খালা রোকেয়া বেগম, ভাই রুমান (১২), শাকিব (৮) ও ভাতিজা কোহিনুরকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে নৌকায় উঠেছেন। দূর্ঘটনার পর আমি বেচে থাকলেও তাদের আর খোঁজে পাইনি। একই এলাকার কালু মিয়ার স্ত্রী রুমানা বেগম জানান, তার সন্তান অন্তর (১০) ও আমির হোসেন (৮)কে বাঁচাতে পারলেও রুমান (১২) ও জাকির (৮) এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বেঁচে থাকা লোকজনের স্বজন হারানোর কাহিনী বর্ননা করতে গিয়ে অনেকেই মাটিতে লুটে পড়ে আহাজারি করতে থাকে।
খবর পেয়ে সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরী, পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রাজিব আহমদ, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না, দোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, ছাতক সহকারি কমিশনার (ভূমি) গোলাম মাইন উদ্দিন হাসান, ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি, দোয়ারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ সেলিম নেওয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল আবেদীন আবুল এ মর্মান্তিক ঘটনার গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, বেতুরা গ্রামবাসী দূর্ঘটনা কবলিত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় ইউনিয়নবাসী গর্বিত। দোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, প্রতাবপুরের মানুষ উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া মানুষদের নিজ ঘরে আশ্রয় দিয়ে মানবতার কল্যাণে যে দৃষ্টান্ত রেখেছে প্রতাবপুরবাসী তা ইউনিয়নবাসীর গর্বের বিষয়। সকাল থেকে ছাতক ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার জাবেদ আহমদের নেতৃত্বে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরী জানান, এভাবে রাতের বেলা যাত্রী নিয়ে চলাচলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এধরনের দূর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা করেন তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!