জিএইচ হান্নান, শেরপুর : তীব্র শীত, শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে শেরপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৭ জানুয়ারী সোমবার শেরপুরে সারাদিন সূর্যের মুখ যায়নি। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও শেরপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দূরপালাগামী যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদে নৌ চলাচলও বিঘিœত হচ্ছে। প্রচন্ড শীতের কারণে শেরপুর জেলা শহরে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে গেছে। অফিস-আদালত ও দোকানপাটে লোকজনের উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

শেরপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এ.আর.এম হাবিবুলাহ সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্ক মানুষ সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘন্টায় এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ৯৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে প্রায় ৩শ রোগি চিকিৎসা নিয়েছেন। শীতে শেরপুর সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন চরাঞ্চলের ও সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের আদিবাসী ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাঁদের এখন পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র প্রয়োজন। শেরপুরের চর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মওসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের পক্ষ থেকেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে।




