ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে (পানি শোধনাগার) বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে প্ল্যান্টটির সমুদ্র থেকে পানি তোলার পাম্প এবং বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম খাবার পানির সংকটে পড়েছেন। ১৮ জুলাই শনিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।

হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামজেহ পোর তাসনিম নিউজকে জানিয়েছেন, উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে অবস্থিত ওই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধবিমান থেকে উপর্যুপরি বোমা হামলা চালায়। তিনি এই হামলাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘প্ল্যান্টটির মূল জলকপাট ও সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের পাম্পিং স্টেশনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ওই অঞ্চলের পশ্চিমাংশের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়েছেন।’
অবশ্য হামলার পর থেকেই জরুরি উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীরা পাইপলাইন মেরামত এবং বিকল্প পাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। তবে হামলার মাত্রা বেশি হওয়ায় প্ল্যান্টটি চালু হতে সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলমান এই সামরিক সংঘাত বন্ধে ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি অর্জনে গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। মার্কিন বাহিনী গত সাত রাত ধরে টানা ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যার মধ্যে গত রাতে হরমোজগান প্রদেশের একাধিক মহাসড়ক, রেলসেতু ও টানেলও ধ্বংস করা হয়েছে।
এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব’ হিসেবে ইরানও কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই পাল্টা হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রেও আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।




