গ্রাম নানা অনুষঙ্গে আমাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শিল্প-সাহিত্যের কী বিপুল ভাণ্ডার যে আমাদের গ্রামবাংলা, তা ব্যাখ্যাতীত। এই গ্রামকে নিয়েও যে একটি সাহিত্যপত্রিকা হতে পারে, সেটা প্রমাণ করেছে লোক নন্দন বিষয়ক পত্রিকা “বৈঠা”। গত ২০ মে ২০২৬ বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে অনুষ্ঠিত হলো ‘বৈঠা’র প্রকাশিত জ্যোৎস্না, বৃষ্টি, গ্রাম, সমুদ্র ও পাহাড় এই পাঁচটি সংখ্যার পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। জ্যোৎস্না সংখ্যা নিয়ে পর্যালোচনা করেন কথাশিল্পী মোজাফফর হোসেন, বৃষ্টি সংখ্যা নিয়ে পর্যালোচনা করেন কবি নাসির আহমেদ, গ্রাম সংখ্যা নিয়ে পর্যালোচনা করেন কবি ওবায়েদ আকাশ, সমুদ্র সংখ্য নিয়ে পর্যালোচনা করেন কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান ও পাহাড় সংখ্যা নিয়ে পর্যালোচনা করেন কবি সৌম্য সালেক।

সূচনা বক্তব্যে বৈঠা সম্পাদক শিহাব শাহরিয়ার বলেন, লিটলম্যাগ এক অনিয়মিত ট্রেনযাত্রা। তাঁর এই যাত্রার নাম বৈঠা। ‘বৈঠা’র নামকরণ, ২০০৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল সময়কালে প্রকাশিত প্রত্যেকটি সংখ্যার পরিকল্পনা ও সম্পাদনার নানামাত্রিক দিক তুলে ধরেন। তিনি এই পত্রিকাটি করতে মীজানুর রহমান ত্রৈমাসিক থেকে উদ্বুদ্ধ হন বলেও জানান।
‘জ্যোৎস্না’ সংখ্যা নিয়ে মোজাফফর হোসেন বলেন, কবি শিহাব শাহরিয়ার কবিতা ও ফোকলোর গবেষণার পাশাপাশি এক দুর্দান্ত ও অত্যন্ত পরিশ্রমী কাজ করছেন— যাও এক ধরনের নিবিড় গবেষণা। ‘বৈঠা’র প্রথম জ্যোৎস্না সংখ্যা পাঠ করে দেখলাম, তিনি জ্যোৎস্না ও চাঁদের মতো নান্দনিক বিষয়কে তুলে ধরার জন্য ৬৭জন প্রবীণ ও নবীন লেখককে দিয়ে লিখিয়ে এক অসাধারণ সংখ্যা সম্পাদনা করেছেন।

‘বৃষ্টি’ সংখ্যার পাঠপর্যালোচনায় কবি নাসির আহমেদ বলেন, শিহাব পরিশ্রম করতে ভালোবাসে। এই প্রকাশিত পাঁচটি সংখ্যার আলোচনা হচ্ছে, তা হওয়া উচিত—কেননা শিহাব তাঁর কাজে সবসময়ই মনযোগী ও নিষ্ঠাবান। আমি তাঁর এই কাজের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলতে চাই, সম্পাদনা একটি কঠিন কাজ, সাধনার কাজ।
‘গ্রাম’ সংখ্যা নিয়ে ওবায়েদ আকাশ বলেন, শিহাব শাহরিয়ারকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাই যে, তিনি বিষয়ভিত্তিক এই পাঁচটি পাঠক-নন্দিত ও সমৃদ্ধ সংখ্যা সম্পাদনা করেছেন। গ্রাম সংখ্যা পড়ে আমার যেমন মনে পড়ে জন্মগ্রাম সুলতানপুরের কথা, তেমনি এ সংখ্যায় গ্রাম কী, প্রাচীন গ্রাম, প্রত্নতত্ত্ব গ্রাম থেকে শুরু করে গ্রামের খুঁটিনাটি তথ্য তুলে এনেছেন তিনি নানামাত্রিক লেখকদের লেখার মাধ্যমে। সম্পাদক শিহাব শাহরিয়ারকে পাঠকের পক্ষ থেকে ভালোবাসা।
সমুদ্র সংখ্যা নিয়ে বলতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, সমুদ্র সংখ্যায় আমার একটি লেখা ছাপা হয়েছে, সেটি নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে। সমুদ্রের ওপর বহুমাত্রিক লেখা নিয়ে সম্পাদক শিহাব শাহরিয়ার শ্রমসাধ্য কাজ করেছেন সমুদ্র সংখ্যায়।
পাহাড় সংখ্যা নিয়ে কবি সৌম্য সালেক বলেন, পাহাড়কে একজন লেখক গণ্য করেছেন ধ্যানস্থ ঋষির মতো। পাহাড় সংখ্যা করার ক্ষেত্রেও সম্পাদক অনেকটা ধ্যানের মতই দীর্ঘ সময় নিয়ে করেছেন, অন্যথায় ৭০০ পৃষ্ঠার এমন দীর্ঘ কাজ করা সম্ভব হতো না।
সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, শিহাব শাহরিয়ার আমাদের সময়ের একজন ভিন্নমাত্রিক ও অতুলনীয় কবি ও সাধক। সাধক অর্থে করিতকর্মা ও দক্ষ মানুষ। ভালো কবিতা লেখার পাশাপাশি বৈঠা নামক এক দক্ষ নৌকার মাঝি শাহরিয়ার আমাদেরকে এক স্বপ্ন নদী ভ্রমণ করাচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার।




