ads

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে ২০২৬ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে কমতে শুরু করেছে পাহাড়ি ঢলের পানি, সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে

জুবাইদুল ইসলাম
মে ১৪, ২০২৬ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

গত ২৪ ঘন্টায় ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শেরপুরের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গতকাল বিপদসীমার ১৬০ উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি আজ ১৪ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপদসীমার ৮০ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঢলের পানি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নেমে যাওয়ায় এই পাহাড়ি ঢলে ফসল এবং ঘরবাড়ির তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, গতকাল বুধবার ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুর জেলার মহারশি, সোমেশ্বরী, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর পাড় ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে গতকাল রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে চেল্লাখালী নদীর পানি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে স্বস্তি দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

তবে গতকালের ঢলে গোল্লারপাড় এলাকার নদীপাড়ে অবস্থিত সায়েদা বেগম নামে এ বৃদ্ধার ঘর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, গতবছরের ঢলের পানিতে আমার বাড়ির সামনে নদীর পাড় ভাইঙ্গা গেছে। আমার কিছু জমিও নদীতে চলে গেছে। আর এইবার ঢল আইসা ঘরের সবকিছু ভাসায়া নিয়ে গেছে। গতবার যদি পাড়টা ঠিক করতো তাইলে তো আমার এই ক্ষতিটা হইতো না। এখন যে রাইন্ধা খামু সেই চালটাও নাই।
স্থানীয় কৃষক আমির উদ্দিন জানান, গতবার ভাঙনের পর এই বানটা আর ঠিক করে নাই। যদি গতবারই ঠিক করে ফেলতো তাইলে কালকের ঢলে তো কারও কোন ক্ষতি হইতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা আসে আর মাইপা নিয়া যায়। কিন্তু কাম তো আর হয় না।

Shamol Bangla Ads

এদিকে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকার ভাঙা স্থান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। ওইসময় তার সাথে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, কলসপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদসহ নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত সায়েদা বেগমকে তাৎক্ষণিকভাবে চালডালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। একইসাথে ওই বৃদ্ধার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের বিষয়টিও তিনি দেখবেন বলে জানান।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এ উপজেলায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় ১০ শতাংশের মতো ধান কাটা বাকী রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সময়ে নেমে যাওয়াতে ধানের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, চেল্লাখালী নদীর আগের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করেছিল। তবে সেটি রাতের মধ্যেই নেমে গেছে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি পানি অনেক কমে গেছ। এই মুহূর্তে বন্যা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত জায়গাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হবে।

Need Ads