শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গেছে। এত বছর পরও কেন আমাদের এই সমস্যাগুলো রয়ে গেছে? কেন আমাদের ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে না? আমাদের ত্রুটি কোথায়? আমি নিজেও এর উত্তর খুঁজে পাইনি।’ ৭ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওইসব মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি নিজেও প্রায় ২০ বছর আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমি দেখতে পাইনি। এটা আমার পর্যবেক্ষণ। অথচ ইউনিসেফ মাঠপর্যায়ে কাজ করে আমাদের তথ্য দিয়েছে, বর্তমানে শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা কী। আমরা হয়তো জানি না অথবা সবাই জানি, কিন্তু স্বীকার করি না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ইউনেসকো কমিশন আমাদের ৬ শতাংশ পর্যন্ত যেতে বলেছে। আগের সরকারগুলো কখনো জিডিপির ১ দশমিক ৭০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করেনি। কিন্তু এখন আমরা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

তবে এর ফলাফল কী প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরাই মূল বিষয়। আর আমরা নীতিনির্ধারকেরাও দায়ী। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত—শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করতে, শিক্ষা বিভাগকে উন্নত করতে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের অফিসার, শিক্ষক, প্রশিক্ষকেরা কীভাবে কাজ করছেন আমি জানি না।
বড় বড় প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে তা কার্যকর কি না সে প্রশ্ন তোলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কেন গবেষণায় এমন তথ্য আসে যে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে পারে না? কেন?
শিক্ষা ও শিক্ষকের মানোন্নয়নে সরকারের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সেই পথেই এগোতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পিইডিপি-৪ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৫১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পিইডিপি-৫ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তুলে ধরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রাথমিক শিক্ষার এই অবস্থা যদি হয়, তাহলে এর জবাব কে দেবে? সরকার তো বিনিয়োগ করছে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।




