শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার‘স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ২১ এপ্রিল বুধবার বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার‘স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এ প্রতিবাদ জানায়।
প্রতিবাদে বলা হয়, বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার‘স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে যে, “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” নামধারী একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠনের সভাপতি জনাব মোঃ সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিকৃত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। উক্ত কনটেন্টটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়; যার মাধ্যমে একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জঘন্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

প্রকাশিত তথাকথিত প্রতিবেদনে যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে—যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপ, নেশাদ্রব্য সেবন ইত্যাদি—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে, বালিজুরি রেঞ্জে যোগদানের পর জনাব সুমন মিয়া তৎকালীন রেঞ্জ অফিসারের ৯ (নয়) কোটি ৩১ (একত্রিশ) লক্ষ টাকার রাজস্ব আত্মসাতের অনিয়ম উদঘাটন করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটিই এই অপপ্রচারের মূল কারণ। এটি সুস্পষ্ট যে, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাতের মতো গুরুতর অনিয়ম উন্মোচনকারী একজন সাহসী সৎ কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কুৎসিত ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার পরিচালিত হচ্ছে—যা কেবল ব্যক্তিগত মানহানিই নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনের শাসন ও সুশাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
ঘটনার প্রকৃত বিবরণ হলো—প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই গাছ চুরির সংবাদ পেয়ে জনাব সুমন মিয়া স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চোরদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় চালান প্রদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে উপস্থিত এক আউটসোর্সিং স্টাফের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই একাধিক অভিযোগ বিদ্যমান ছিল এবং সে ঘটনাস্থলে বিলম্বে উপস্থিত হয়। যৌক্তিক সন্দেহের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন যাচাই করা হলে দেখা যায়, উক্ত স্টাফের সাথে চোরচক্রের সরাসরি ও বারংবার যোগাযোগের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে—যে চক্র পূর্বে বন বিভাগের সদস্যদের উপর হামলার সাথেও জড়িত। পরবর্তীতে উক্ত স্টাফ মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়ে তার পিতার হার্ট অ্যাটাকের কথা বলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, তার পিতা সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। পরবর্তীতে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

ভিডিওতে একজন স্টাফকে বদলীর বিষয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে, অভিযোগে উল্লিখিত স্টাফ নিজেই সমন্বয়ক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ বন বিভাগের উপর অকালীন বদলীর জন্য অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে তিনি নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান না করে নিজের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সদর বিট কর্মকর্তার নিকট অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটির আবেদন করেন, যা দায়িত্বশীল আচরণের পরিপন্থী। এমতাবস্থায়, বিষয়টি যথাযথভাবে তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে প্রায় ০৬ (ছয়) মাস অনুপস্থিত থাকার পর উক্ত বন প্রহরী কর্মস্থলে পুনরায় যোগদান করলে তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ বন বিভাগ প্রশাসনিক বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে বদলী আদেশ জারি করেন। অতএব, এ বিষয়ে ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার একটি অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক যে, ভিডিওতে ব্যবহৃত একটি গ্লাস হাতে থাকা ছবিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে, ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস চলাকালীন তোলা; কিন্তু সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট গোপন রেখে আংশিকভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। একইভাবে, কৃত্রিম (AI) ভয়েস, ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ছবি এবং সাজানো উপাদান ব্যবহার করে একটি মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর কাহিনি দাঁড় করানো হয়েছে, যা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাদারিত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এছাড়াও, সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত একটি জিপগাড়ির জ্বালানি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। উক্ত যানবাহন সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত জ্বালানির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে থাকে এবং অত্র রেঞ্জে নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং স্টাফ ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন সুতরাং এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি একটি সরকারি রেঞ্জ অফিসের ফ্রিজে পরিকল্পিতভাবে মদের লেবেলযুক্ত বোতল স্থাপন করে তা ভিডিও ধারণের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা একটি জঘন্য ও দৃষ্টান্তমূলক ষড়যন্ত্র।
ইতোমধ্যে, উক্ত মানহানিকর ও মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে জনাব মোঃ সুমন মিয়া বাদী হয়ে শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন, যা বিষয়টির গুরুতরতা ও আইনানুগ প্রতিকার গ্রহণের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার‘স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে যে, এ ধরনের মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের বিরুদ্ধে আমরা কোনোভাবেই নীরব থাকবো না। শুধু উক্ত কর্মকর্তা নন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনরত বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, যা একটি উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় প্রবণতা। এই ধরনের অপপ্রচার একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে, অন্যদিকে বন বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে উক্ত মানহানিকর ভিডিও সকল প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকেই বহন করতে হবে। পরিশেষে, আমরা সকল গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীলতা, তথ্য-যাচাই এবং পেশাগত নৈতিকতা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।




