স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘন্টা ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের পাশে থাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ অন্তত: ৬০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘটনাস্থল এলাকা থেকে অন্তত: অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করে। সেই সাথে তল্লাসী চালিয়ে অসংখ্য হাতুরি, দা, বটিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব এলাকায় অবস্থান করছে।
জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে শেরপুর পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। এক পর্যায়ে তারা পলিটেকনিকের ভেতরে ভাংচুর শুরু করলে ওইসময় পলিটেকনিকের বাইরে অবস্থানরত পুলিশ পলিটেকনিকের ভেতরে ঢুকে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সেইসাথে তারা পলিটেকনিকের নিজস্ব মাইক্রোবাসসহ ল্যাবরেটরি কক্ষ, বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র মূল্যবান জিনিসপত্র ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে। এরপর তারা পলিটেকনিকের ৫ তলার ছাদের উপর উঠে পলিটেকনিকের সামনে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থানরত পুলিশের ওপর বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এদিকে পলিটেকনিকের বাইরে অবস্থানরত আশপাশের বিভিন্ন মেসের শিক্ষার্থীরাও সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে রাস্তার দুই প্রান্ত থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি-সোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ওইসময় পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরে শর্টগানের গুলি (রাবার বুলেট) নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের ওই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এভাবে প্রায় ৪ ঘন্টা চলে থেমে থেমে সংর্ঘষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব গিয়ে পলিটেকনিকের ভিতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে মুর্হূমুহু রাবার বুলেট ছুড়তে ছুড়তে পলিটেকনিকের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন নেয়। এতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা পিছু হটে পলিটেকনিকের পেছন দিয়ে পালাতে থাকে। এরপরও পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে পলিটেকনিকের ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করে। ওইসময় পুলিশ শিক্ষাথীদের কাছ থেকে অসংখ্য হাতুরি, দা, বটিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে।
এদিকে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংর্ঘষের সময় পুলিশের রাবার বৃুলেট ও ইটের আঘাতে শেরপুরের সিনিয়র এএসপি (সার্কেল) মো. সালাহউদ্দিন শিকদারসহ প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য এবং শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ আরও প্রায় ৩০ জন আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও আহত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পাকড়াওয়ের ভয়ে নিরাপদে চলে গেছে। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলায় ৪ ঘন্টা শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে ওই সংর্ঘষ ও ভাংচুরের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসুচী চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ করেছে। অপরদিকে শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন শিকদার দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে পলিটেকনিকের দরজা-জানালা ভাংচুর ও বাইরে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পুলিশের উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষায় পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল এবং পরবর্তিতে বাধ্য হয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এব্য্পাারে শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিমেষ চন্দ্র সূত্রধর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রবিবারের পরীক্ষা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।






