ads

বুধবার , ৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ নির্বাচন : বিপুল ব্যবধানে জিততে চায় বিএনপি, আশাবাদী জামায়াতও

জুবাইদুল ইসলাম
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ণ

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণা, জনসভা ও গণসংযোগ শেষ হয়েছে। ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে মুখরিত ছিল পুরো আসন। ভোটারদের মন জয়ে চলেছে ব্যাপক প্রচারণা, গণসংযোগ, পথসভা। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে দিয়েছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও তার আগেই ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হওয়ায় এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফলে ১২ তারিখের ভোট উৎসবে শামিল হতে পারেননি এ এলাকার ভোটাররা। তাই ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছেন তারা।

Shamol Bangla Ads

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, শ্রীবরদী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে শেরপুর-৩ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। এ নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী, প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ছোটভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান। তবে কাগজে-কলমে থাকলেও ভোটের মাঠে নেই প্রার্থী মিজানুর রহমান।

শেষ মুহূর্তে দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। গত সোমবার ঝিনাইগাতীতে বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেছেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। অপরদিকে শ্রীবরদীতে গণমিছিল করেছেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ।

Shamol Bangla Ads

তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলের পক্ষে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও সমানতালে মাঠে নেমেছেন। তার স্ত্রী ফরিদা হক দীপা ও মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম গ্রাম-গঞ্জে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন। ছেলে রাফিদুল হক তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে সক্রিয় রয়েছেন।

অন্যদিকে পুনঃতফসিলের পর থেকে মাঠে সরব ছিলেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচিতি ও সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা সরে দাঁড়ানোয় এখন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই হবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।

শেরপুর-৩ আসনে ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম ডা. সেরাজুল হকের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে রাজনীতিতে আসেন তার ছেলে মাহমুদুল হক রুবেল। বাবার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। দীর্ঘদিনের সেই অবস্থান বদলে দিতে এবার নতুন করে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন মাহমুদুল হক রুবেল।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে দুর্যোগকালীন সময়ে তিনি সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন। এলাকার প্রতিটি সমস্যা ও সম্ভাবনা তার জানা। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালে এ এলাকায় বহু রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টসহ শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেছি। কিন্তু ২০০৬ সালের পর এ এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোন উন্নয়ন করেনি ফ্যাসিস্ট সরকার। এখন যেহেতু বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিপুল ব্যবধানে জনসাধারণ আমাকে বিজয়ী করলে সীমান্তবর্তী অবহেলিত মানুষের পরিবর্তনে রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটনসহ কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, এখানকার ভোটাররা এখন সচেতন, তারা পরিবর্তন চায়। চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির আশায় মানুষ জামায়াতকে বিকল্প হিসেবে দেখছে। ভোটাররা আমাকে জয়ী করলে মরহুম নুরুজ্জামান বাদলের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
এদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও থাকছে পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শেরপুর-৩ আসনের দুটি উপজেলায় মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!