ads

শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অস্তিত্ব সংকটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা

অভিজিৎ সাহা, নালিতাবাড়ী
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৩:১০ অপরাহ্ণ

চর্চা ও সংরক্ষণের অভাবে শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকটি মাতৃভাষা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, শিক্ষক ও গবেষকেরা মাতৃভাষা রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তজুড়ে গারো, হাজং, কোচ, বানাইসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্য হাতি, বন্য শুকর ও বিষাক্ত সাপের ঝুঁকি, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই তাদের জীবনযাপন করতে হয়। জীবনসংগ্রামের এই বাস্তবতায় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি কমে যাচ্ছে মাতৃভাষার চর্চাও।

Shamol Bangla Ads

স্থানীয় শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ পরিবারে এখন শিশুদের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলার প্রবণতা বাড়ছে। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতৃভাষার ব্যবহার না থাকায় নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে নিজস্ব ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের শহরমুখী অভিবাসনও ভাষা হারানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের পাঁচটি মাতৃভাষায় পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল মিলছে সীমিত আকারে। স্থানীয় শিক্ষকদের অভিযোগ, চলতি বছর অনেক বিদ্যালয়ে সময়মতো মাতৃভাষার বই পৌঁছায়নি।

Shamol Bangla Ads

মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক পরিমল কোচ বলেন, আমাদের কোচ সম্প্রদায়সহ জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনা ও চর্চা না থাকলে কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই এই ভাষা হারিয়ে যাবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, ভাষাগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বারোমারি সেন্ট লিও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অগ্নেশ সরেন বলেন, একটি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান ভিত্তি তার নিজস্ব ভাষা। পাহাড়ের পাদদেশে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। আগে গারো ভাষার পাঠ্যপুস্তক পেলেও এ বছর কোনো বই পাইনি। অন্যান্য বইয়ের মতো বছরের শুরু থেকেই নিজস্ব ভাষার মাতৃভাষার বই হাতে পেলে শিশুদের শেখানো সহজ হয়।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠান, লোকগান ও ধর্মীয় প্রার্থনায় মাতৃভাষার ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন সেই পরিসর সংকুচিত হওয়ায় ভাষার ব্যবহারও সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের শিক্ষিত তরুণদের শহরমুখী হওয়ায় গ্রামে শিশুদের মাতৃভাষা শেখার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস জেলার তিনটি উপজেলায় প্রায় এক দশক ধরে মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ‘মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা’ (এমএলই) কর্মসূচির আওতায় জেলাজুড়ে প্রায় ৪০টি স্কুলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা করা হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারিতাসের নালিতাবাড়ী উপজেলা সমন্বয়কারী হিলারিয়ুস রিছিল বলেন, গারো, হাজং ও কোচ সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আগে মাতৃভাষা শেখার সুযোগ দিতে আমরা কাজ করছি। তবে বৃহৎ পরিসরে সরকারি সহায়তা ছাড়া ভাষা সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৪৬টি ভাষার মধ্যে ৪০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা। এর মধ্যে অন্তত ১৪টি ভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যেসব ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোর উপাত্ত সংগ্রহ ও ভাষা-নথিভুক্তকরণ করা হচ্ছে। ভাষা টিকিয়ে রাখতে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

Need Ads
error: কপি হবে না!