রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা থেকে নৌকা ঘাট পর্যন্ত রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। এতে চরাঞ্চলের হাজারও লোকজন ও স্থানীয় পন্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে যাতে গাড়িগোড়া ও মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। শনিবার ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: জাহের মন্ডল। তিনি রাজীবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়ার্ড শাখার আ’লীগের সভাপতি বলেও জানা গেছে। একজন নেতা এমন ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে নৌকা ঘাটের ইজারাদার বাদি হয়ে রাজীবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

নৌকা ঘাটে যাওয়ার ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকে। রাজীবপুর ওই নৌকা ঘাট থেকে নৌপথে গাইবান্ধা, চিলমারী সারা উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগ করে থাকে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার মানুষ ও প্রশাসনের লোকজন। এছাড়াও জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীও আনা হয় ওই রাস্তায়। রাস্তাটি এলাকাবাসির জন্য খব্ইু গুরুত্বপূর্ন। রাস্তা বন্ধ করার ফলে যাতায়াত ও পন্যবাহি গাড়িগোড়া চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ভ্যান গাড়ি চালক আছমত আলী বলেন, ‘একজন সরকার দলের নেতা হয়ে কি ভাবে তিনি এ কাজ করলেন।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রাস্তায় বেশ কয়েকটি বড় ধরনের গর্ত করা হয়েছে। এবং বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নৌকা ঘাটের কুলি সুরমান আলী জানান, জাহের মন্ডল এবার নৌকা ঘাটের শেয়ার পায়নি। আর এ কারেন আক্রোশ মূলক ভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তা বন্ধ করায় ডিজেলবাহি মহিষের গাড়ি যেতে পারছে না। নৌকা ব্যবসায়ি তৈয়ব আলী বলেন, ‘একজন শিক্ষক মানুষ হয়ে মানুষের কষ্ট দেওয়া অমানবিক। তাছাড়া রাস্তার যে স্থানে বন্ধ করা হয়েছে ওই স্থান বালু চর। নদীর কাচার কোনো ফসলও হবে না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘জাহের মন্ডল ভালো মানুষ না।তিনি সরকার দলের নেতা তাই স্কুলে চাকরি করলেও কোনোদিনও স্কুলে যায় না। অন্যজনকে দিয়ে কাজ সারেন।’

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামে জাহের মন্ডলের বাড়ি। সে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অধিনে উত্তর জোয়ানের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ির অল্পদূরে স্কুল হওয়ায় জাহের মন্ডল একদিনের জন্যও স্কুলে উপস্থিত থাকে না। এনামুল হক নামের একজনকে দিয়ে বদলি শিক্ষকতা করান। আর মাস শেষে বেতন উঠান জাহের মন্ডল। এ প্রসঙ্গে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহের মন্ডল এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ওই রাস্তা আমার জমির ওপর দিয়ে গেছে। পাশেই কাউন বোনা হয়েছে। আর এ কারনে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে যাতায়াতের জন্য কিছু ফাঁকা রাখা আছে।’ স্কুলে অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন।
রাস্তা বন্ধ করে যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজীবপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মানুষের যাতায়াতের ব্যবহৃত রাস্তা কেউ বন্ধ করতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘আমি কুড়িগ্রাম যাওয়ার পথে দেখেছি। কুড়িগ্রাম থেকে ফিরে এসে ব্যবস্থা নিব।’




