তাপস কুমার, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রবিশস্য চাষ করা হয়েছে। রবি শস্যের বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। বিভিন্ন বিল থেকে বন্যার পানি আগাম নেমে যাওয়া, অনুকুল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার বরি শস্যের বাম্পার ফলন পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ১শ ৫০হেক্টর জমিতে রবিশস্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। জানা যায়, নির্ধারণ কৃত রবিশস্যের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে আলু ২ হাজার ৩’শ হেক্টর, সরিষা ৪ হাজার ১‘শ হেক্টর, গম ৩৯০ হেক্টর ও ভুট্টা ২ হাজার ৩’শ ৫০ হেক্টর। এসব রবিশস্যের মধ্যে ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উপজেলার নবাবেরতাম্বু গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকার যেসব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত সেসব জমির অনেক গুলোতেই আমারা এবার ভুট্টা করছি। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠেনা। কিšুÍ ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে এবার ঝুঁকে পড়েছি। উপজেলার চৌড়বাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। উপজেলার সিংহভাগ আলু আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। গতবার আলুচাষে লোকসানের শিকার হয়েছি। মৌসুমের শেষদিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকরা পায়নি। মুনাফা পেয়েছে মজুদদাররা। তারপরেও আগ্রহ নিয়ে এবার আমরা আলু চাষ করেছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।
আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী বলেন, এলাকার কৃষকরা যাতে রবি শস্য যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ফসলকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড.এমএ আজিজ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সকল প্রকার ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষকরে বীজ,সার ও তেল এর জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। আর এ মনিটরিংয়ের কারণে এখন পর্যন্ত আত্রাইয়ে সার ও তেলের কোন সংকট দেখা দেয়নি।




