পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে আসতে শুরু করেছে। সেন্ট মার্টিনে আমরা যে নিয়ন্ত্রণমূলক কাজগুলো করছি, তার পাশাপাশি একটি মাস্টারপ্ল্যান করা যায় কি না, সেটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখানে কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে প্ল্যান করা হয়েছে। সরকারিভাবে একটি নীতিমালা করা হয়েছে, সেটি গেজেটভুক্ত। ফলে ওই ৩টির সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা যায় কি না, সেটি চিন্তা করা হচ্ছে। ২৩ জুন সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওইসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী ২৫ জুন বুধবার থেকে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পরিবেশমেলা ও বৃক্ষমেলা শুরু হচ্ছে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জলবায়ু ট্রাস্ট থেকে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রথাগত যে পদ্ধতি রয়েছে তার সঙ্গে এই প্রকল্প সেখানে সাপোর্ট করবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই কাজ পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকদূষণ মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে ক্যান্সারসহ নানা দুরারোগ্য রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ কারণে সরকার ১ জুন ২০২৫ থেকে স্ট্র, স্টারার ও কটন বাড নিষিদ্ধ করেছে এবং ১৭টি সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি’র খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, চট্টগ্রামের ৮টি এবং দেশের ৪০টি উপজেলাকে ‘এক্সপোজড কোস্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালিত ৪৩৪টি মোবাইল কোর্ট ৮১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং দুই লাখ ৩৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। বনভূমি রক্ষায় গত আগস্ট থেকে এক হাজার ৭১৭ একর বনভূমি দখলমুক্ত করে বন বিভাগের আওতায় আনা হয়েছে; সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের নামে দেওয়া বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে; মিরসরাইয়ের বেজাকে দেওয়া চার হাজার ১০৪ একর জমি পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বায়ু, শব্দ ও নদীদূষণ রোধে এক হাজার ৬৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই হাজার ৪৯৯টি মামলায় ২৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪৮১টি ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে নতুন কর্মপরিকল্পনা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ।




