বুধবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের বাড়তে শুরু করেছে শেরপুরের বিভিন্ন নদ–নদীর পানি। এতে জেলার চারটি নদনদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।এরমধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় বন্যার শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ভোগাই ও শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এ ছাড়া ঝিনাইগাতীতে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি রাত থেকে বাড়তে শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলায়ও বৃষ্টি বেড়েছে। ফলে মেঘালয় থেকে নেমে আসা জেলার চেল্লাখালী, ভোগাই, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদীতে পানি বাড়তে থাকায় ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে বন্যার শঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী।

ঝিনাইগাতীর দীঘিরপাড় এলাকার গৃহিনী আছমত আরা (৩৮) বলেন, কয়দিন আগেই বন্যার কাছ থাইক্কা আল্লাহ বাচাইছে। অহন আবার যেমন কইরা বৃষ্টি হইতাছে আর মহারশির পানি বাড়তাছে কহন জানি বন্যা হয়।
নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পাড়ের সন্নাসীভিটা গ্রামের বাসিন্দা আক্কাছ আলী বলেন (৫০), বৃহস্পতিবার রাত থাইক্কা নদীতে যেমনে ঢলের পানি আসা শুরু হইছে এতে আমরা বন্যার আশঙ্কা করতাছি। অহন যদি বৃষ্টিও না কমে আর পানিও আরো বাড়ে তাইলে আমরা বিপদে পড়মু।
বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে চেল্লাখালী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ঢলের পানি আর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং ঢলের পানি বাড়লে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সব সময় প্রস্তত রয়েছি।
পাউবোর শেরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, জেলার চারটি নদনদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে নদীরক্ষা বাঁধের কোন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। আজ ও আগামীকাল বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি কমে যাবে।




