ads

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ, টিআইবির জরিপ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ৩, ২০২৪ ৮:২৪ অপরাহ্ণ

গত এক বছরে খানা জরিপ করে দেশের সেবা খাতের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জরিপে পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। জরিপে সর্বোচ্চ ঘুষ লেনদেনের দিক থেকে বিচারিক সেবা, ভূমি ও ব্যাংকিং খাতের নাম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রতিবেদন আকারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৭টি সেবা খাতের ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের মধ্যে এমএফএস, ওয়াসা ও অনলাইন শপিংয়েও জরিপ চালায় সংস্থাটি।

Shamol Bangla Ads

টিআইবির প্রতিবেদনে পাসপোর্ট, বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সসময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির খানা জরিপে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঘুষ গ্রহণের দিক থেকে বিচারিক সেবা, ভূমি ও ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ গড় ঘুষ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ (এপ্রিল) পর্যন্ত সেবা খাতে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুষের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। এই সময়ে সার্বিকভাবে দুর্নীতির শিকার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার বা খানা।

Shamol Bangla Ads

এ ছাড়া সেবা পেতে পরিবার বা খানা প্রতি সর্বনিম্ন ৫ হাজার ৬৮০ ঘুষ দিতে হয়েছে। গড় ঘুষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবায় এই খাতে একটি সেবা পেতে গড়ে গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা, প্রতিটি ভূমি সেবার জন্য গড়ে গুনতে হয়েছে ১৭ হাজার ৪৭১ ও ব্যাংকিং খাতে ৭ হাজার ৩৬৩ টাকা। সেবা পেতে ৭০ শতাংশ ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার হয়েছে। আর ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে। সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিয়েছে। এই সময়ে ভূমি সেবা পেতে ঘুষ দিয়েছে ২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা, বিচারিক সেবা পেতে ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেবা পেতে ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ও পাসপোর্টে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচারিক সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় দুর্নীতি ও ঘুষের উচ্চ হার অব্যাহত, যা সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা; অন্যদিকে ভূমি সেবা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিআরটিএর মতো সেবায় উচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষ বিদ্যমান, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ সেবা প্রাপ্তির অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও ঘুষ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিআরটিএ, ভূমি, পাসপোর্ট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক প্রক্রিয়ার নাম উঠে এসেছে।

এই সময়ে বিআরটিএতে সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৮৬ শতাংশ, আর প্রতিষ্ঠানটিতে ঘুষ দিতে হয়েছে ৭১ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে। পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৮৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা, ঘুষ দিতে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, আর ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ সেবা গ্রহীতাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। বিচারিক সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ, ঘুষের শিকার ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া ভূমিসেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতি শিকার ৫১ শতাংশ, ঘুষ দিতে হয়েছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ।

সেবা খাতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ জরিপে ফলাফলের ভিত্তিতে টিআইবি সরকারের কাছে ৯ দফা সুপারিশ করেছে। সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়া ডিজিটাইলজডসহ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মাচারীদের আচরণ সম্পদ বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!