শেরপুরের শ্রীবরদীতে ২ ভাই নিহতের ঘটনায় মামলায় আসামিদের বাড়িঘরের মালামাল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২ অক্টোবর বুধবার উপজেলার মালাকোচা গ্রামের মাহবুব মাষ্টারের বাড়ির পাশে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলো ওই গ্রামের মজর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন আনু (৫০), জাকির হোসেন (৪৫), জমর উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫০), ছেলে ফুরকান আলী ( ৩৫) ও মাহফুজুল হকের স্ত্রী সুমী আক্তার (৩০)।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদের চাঁদা নিয়ে মালাকোচা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত নুরল হকের ছেলে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে আলতাফ হোসেন শিরার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে গত ২৪ আগস্ট সকাল ৯ টার দিকে শ্রীবরদী হতে বালিজুড়ি সড়কের মালাকোচা তিনরাস্তা মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয় রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই লিটন মিয়াসহ ৪ জন। পরে লিটন মিয়াকে মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও রফিকুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন বিকালে দায়িত্বরত চিকিৎসক লিটন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন সপ্তাহ চিকিৎসার পর মারা যায় রফিকুল ইসলাম। ওই ঘটনায় আলতাফ হোসেন শিরাসহ ৩৫ জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।
এদিকে ঘটনার দিনই বিকালে লিটন মিয়ার মৃত্যুর পরেই গা ঢাকা দেয় আসামীরা। ওইসময় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নিহতের স্বজনরা। ওইদিন রাতেই শুরু হয় আসামিদের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট। ঘটনার পর প্রায় সব আসামির বাড়ি ঘরের মালামাল ও বিল্ডিং নিয়ে যায় বিক্ষুদ্ধ লোকজন। এখন রয়েছে বিল্ডিংয়ের ধ্বংসাবশেষ। এসব ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ নিয়ে বুধবার দুপুরে আনোয়ার হোসেন আনু গংদের সাথে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মেহের আলী গংদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় আনোয়ার হোসেন আনু, জাকির হোসেন, ফিরোজা বেগম, ফুরকান আলী ও সুমী আক্তার। এদের মধ্যে আনুকে আশংকাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত জাকির হোসেন বলেন, কিছু ইটের গুড়া নিয়ে প্রতিবেশী মেহের আলী ও তার লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হামলা করে আমাকে আহত করে। আজ আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৭ জন আহত হয়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মেহের গংদের সাথে যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




