শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সুলতান মিয়া (৩৮) নামে এক চালকের গলাকেটে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে চালকের গলা কাটার পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় জনতা পৃথক স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শেরপুর সদর উপজেলার বরাটিয়া গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে লিখন (১৮), শাহিন মিয়া ছেলে মনিরুজ্জামান (১৫), মোবারকের ছেলে শান্ত (১৪) ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ডহরিয়াপাড়া গ্রামের রহিদুলের ছেলে তারেক (১৮)।
পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নালিতাবাড়ী শহরের গড়কান্দা মহল্লার অটোচালক সুলতান মিয়া (৩৮) নিজের অটোরিকশা নিয়ে বুধবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে আন্ধারুপাড়া থেকে নয়াবিল আসছিলেন। পথিমধ্যে উঁচু ব্রিজ এলাকায় যাত্রী বেশে ওই অটোরিকশায় উঠে দুস্কৃতিকারীরা।

এসময় তারা চাকু দিয়ে অটোচালকের গলায় আঘাত করে ও অটোরিকশা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অটোচালকের চিৎকার ও ধস্তাধস্তিতে অটোরিকশা ফেলে দৌড়ে পালায় তারা।
পরে স্থানীয়রা আহত সুলতানকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।এসময় অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার পরপর গড়কান্দা এলাকায় অটোরিকশা যোগে আসা তারেকের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা। অন্যদিকে উপজেলার বাঘবেড় এলাকায় পাকা সড়কে একটি অটোরিকশা নিয়ে তিনজনকে অপেক্ষা করতে দেখেন স্থানীয়রা। এসময় ওই তিনজনের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় এবং দু’জনের পায়ে জুতা না থাকায় তাদেরও আটক করে পুলিশে দেয় জনতা।
পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর ইবনে কাদের বলেন, গলায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ওই অটোচালককে হাসপাতালে আনা হয়। রক্তক্ষরন কমাতে গলায় ব্যান্ডেজ করে তাকে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




