অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করা হবে। এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশি নজর দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে প্রকল্পের সব তথ্য ওপেন থাকবে। মেগা প্রকল্প না নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা এক হয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পে চিন্তা দরকার। মেগা প্রকল্পও বাদ দিতে হবে। নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রকল্পের সবকিছু ওপেন থাকবে। শুধু পিডি জানবে তা নয়, সবাই জানবে। সামনে বড় প্রকল্প নয়, জনগুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রকল্প নেওয়া হবে।

একনেক সভাশেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানান, সভায় ১ হাজার ২২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একনেক সভায় ১ হাজার ২২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়ন হবে ৯৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান ১০০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
কিছু প্রকল্প অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেগুলো দেখা হবে। নিরপেক্ষভাবে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য নতুন প্রকল্পকেই একনেকে অনুমোদন হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রকল্প বাদ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, চলমান প্রকল্প কোন পর্যায়ে আছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে চান উপদেষ্টারা। বৈদেশিক সাহায্য পুষ্ট প্রকল্প একনেকে পাস করা হবে। তারপর সেগুলো নজরে রাখবে। বিদেশি অর্থের পরিপূর্ণ ব্যবহার করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত চারটি প্রকল্প হলো :
শিল্প ও শক্তি বিভাগের বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প (১ম সংশোধিত), ২টি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (সুন্দলপুর-৪ ও শ্রীকাইল-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (সুন্দরপুর সাউথ-১ ও জামালপুর-১) খনন প্রকল্প, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধিত) তথ্য আপা নামক প্রকল্প এবং কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়) প্রকল্প।




