ইয়ানুর রহমান (যশোর) : সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, যুদ্ধের ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো প্রকৃত স্বাধীন হতে পারেনি। স্বাধীনতাকে নশ্বাৎ করতে এখনো যুদ্ধাপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্বাদের তারা করে চলেছে অবজ্ঞা অবহেলা। হত্যা করেছে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের। তার পরেও তারা থেমে থাকেনি। মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে তারা বারবার। বাংলার মাটি থেকে তারা স্বাধীনতাকে মুছে ফেলতে অব্যাহত ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধাপরাধিরা এখনো পর্যন্ত এ বাংলার মাটিকে পাকিস্তান বানাতে মরিয়া। কিন্তু সেটা আর হতে দেয়া হবে না। বাংলার মাটি থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে। খুব শীগ্রই তাদের শিকড় উৎপাঠন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাষী। জোট সরকার আমলে তারা দেশের উন্নয়ন না করে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করায় শিক্ষা কৃষিসহ প্রতিটি বিভাগ চরম দৈন্য দশায় পড়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ থেকে দৈন্য দশা কাটানোর লক্ষে ব্যাপক উন্নয়নের কর্মসুচি হাতে নিয়েছে এবং তা লক্ষ অর্জনের শেষ সিমায়।
আপনারা জানেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া কি ধরনের ঐদ্ধর্ত পূর্ন বক্তব্য দিয়েছেন মিডিয়ার সামনে। তিনিই এখনো দেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আতাত রেখেছেন। যা দেশোদ্রহিতার সামিল। আর তাকে প্রতিহত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবারো পুরনো ট্রেনিং কাজে লাগাতে হবে। ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর বিজয় দিবস উপলক্ষে শার্শা উপজেলা চত্তরে আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু’র সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্র“ধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেন, মাজেদা খাতুন, ফজিলাতুন্নেছা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ খলিল, যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান, ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার প্রমুখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: এ কে এম নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির, মনিরুজ্জামান মন্টু, গিয়াস উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, আলিম রেজা বাপ্পি, ইলিয়াছ কবির বকুল, আলহাজ আয়নাল হক, আব্দুর রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, ফজলুল হক বকুলসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দ।
মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২৯৫জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাঝে উন্নতমানের বস্ত্র বিতরন করেন।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, যুদ্ধ ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও এতো বড় সম্মান কেউ আমাদের দেয়নি। গত কয়েক বছর ধরে শার্শা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের যে সম্মান দিয়েছেন এমপি আফিল উদ্দিন তা আমাদের ধারনার বাইরে। এমন সম্মান আমার আর কেউ কোন দিন দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। এর চেয়ে আর চাই না। তবে আমাদের একমাত্র চাওয়া যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসী। এটা দেখে যেন আমার মরন হয়।
মুদ্ধিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।




