পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুরে নিজ বাড়িতে আলোচনা সভা ও দোয়া হয়েছে। সোমবার সকালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পরে সকাল ৮টায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়াসিন কবীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিসি মো. কামরুল আহসান তালুকদার। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, প্রফেসর মো. শাহজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, অধ্যাপক এম এ সামাদ। এছাড়াও আনছার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জাফর শেকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত বক্তারা কবির কর্মজীবন ও বাংলা পল্লী সাহিত্যে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম পল্লীকবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, আনছার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলির তাম্বুলখানা গ্রামের নানা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন জসীম উদ্দীন। কলেজ জীবনেই ‘কবর’ কবিতা রচনা করে বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। এই কবিতাটি পরে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
এরপর কবির আরও ৪৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ কবি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. লিট উপাধি ও ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ৭৩ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই দিনই ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পৈতৃক ভিটায় কবিকে দাফন করা হয়।




