মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরার ২টি আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগেরই লড়াই হবে। ইতি মধ্যেই প্রার্থীরা জোরে সোরোই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ২টি আসনেই আওয়ামীলীগ দলীয় দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুইজন সতন্ত্র প্রার্থী জোরালো প্রতিন্দিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সাথে নামে মাত্র রয়েছেন বিএনএফ এর দুই প্রার্থী। তবে দু’টি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রধান প্রতিদ›িদ্ব আওয়ামীলীগ। তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখতে নেমে পড়েছেন নির্বাচনী ময়দানে।

ইতিমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘণের একাধিক অভিযোগপত্র জেলা রিটানিং কর্মকর্তার দপ্তরে জমা পড়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় রাতদিন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহলায় মহলায় চলছে সভা-সমাবেশ। তবে ভোটের মাত্র ৭ দিন বাকী থাকলেও সাধারন ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালি ইউনিয়নের ভ্যানচালক করিম শেখ বলেন, ভোট দিলিইবা কি আর না দিলিইবা কি। এক দলেরই দুইজন। বাবুখালি বাজারের এক ব্যবসায়ী ওহিদুর রহমান বলেন, এতো আওয়ামীলীগ আওয়ামীলীগ খেলা চলছে। আমরা এইসব খেলার মধ্যে নাই।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি আসনেই আওয়ামীলীগ থেকে মনোনিত দুই প্রার্থী ও সতন্ত্র দুই জন বেশ জোরে সেরেই গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনী পোষ্টার, মিছিল-সামাবেশ, মাইকে প্রচার, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটা স্থানে নির্বাচনী কার্যালয় খুলে জনমত সৃষ্টিতে উভয় পক্ষের নেতারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক স্থানে আবার কম-বেশী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

মাগুরা-১ (মাগুরা-শ্রীপুর)- তিনজন প্রার্থী থাকলেও সরাসরি লড়াই হচ্ছে আওয়ামীলীগ মনোনিত বর্তমান এমপি ডা. প্রফেসর এমএস আকবর, বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা কুতুবুলাহ হোসেন কুটি মিয়ার মধ্যে। বিএনএফ প্রার্থী মোস্তাসিন বিলাহ প্রতিদ›িদ্বতা করছেন নামে মাত্র। ডা. প্রফেসর এমএস আকবর নৌকা, দলের বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা কুটি মিয়া হরিন প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন। আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী এমএস আকবর তিন তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নেতা-কর্মীদের তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ কারণে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ, মাগুরা জেলা আওয়ামীলীগসহ তৃণমুল পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা সতন্ত্র প্রার্থী কুটি মিয়ার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর,শালিখা ও মাগুরার ৪ ইউনিয়ন)- আওয়ামীলীগ সমর্থিত এ্যাড.শ্রী বীরেন শিকদারের প্রধান প্রতিদ›িদ্ব মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল মান্নান। এখানে সতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামীলীগের বেশীর ভাগ সিনিয়র নেতারা গনসংযোগ করছেন। জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েই তারা হরিণ প্রতিকে ভোট চাইছেন। তবে ঘরে বসে নেই আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী। প্রতিদিন তার পক্ষেও চলছে মিটিং-মিছিল ও সমাবেশ। কেবল বিএনএফ প্রার্থী ফিরোজা বেগমের কোন কর্মকান্ড বা পোষ্টার মাইকিং এখনো চোখে পড়েনি। ভোটারদের ধারনা জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বীরেন শিকদার ও আব্দুল মান্নানের মধ্যে কেউ কারো চেয়ে কম নয়। এদিকে দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। সতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, প্রতিদ›িদ্ব বীরেন শিকদার সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীর সরকারি গাড়িও বীরেন শিকদার নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতা ও আব্দুল মান্নানের সমর্থরা মনে করছেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয় তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে। ভোটকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয় কায়দায় বিএনপির নেতা-কর্মীর সাখে সমন্বয় করে যাচ্ছেন। তবে সাধারন ভোটাররা মনে করছেন মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এবং সামান্য ভোটের ব্যবধানে নির্ধারন হবে জয়-পরাজয়।




