সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়। এ সময় হারান পাল নামের এক সাইকেল মিস্ত্রী জখম হয়।
সোমবার রাতে ক্ষুব্ধ জনতা সাতক্ষীরা সদরের ছয়ঘরিয়া ও দেবনগরে দু’ জামায়াত কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর করেছে। পিটিয়ে জখম করা হয়েছে এক যুবলীগ নেতাকে।
নিহতের নাম হাফিজুল ইসলাম(২৫)। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে। আহত হারান পালের বাড়ি কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামে।
ঝাউডাঙা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, ১৮ দলের নেতা কর্মীরা মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা- যশোর সড়কের ঝাউডাঙা বাসস্ট্যান্ডের মুরগিহাটা নামক স্থানে বাঁশ বেধে ও কাঠের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। অবরোধ চলাকালে পিকেটারা একটি পিকআপ পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা সকাল ৯টার দিকে অবরোধ সরানোর চেষ্টা করলে ১৮ দলের নেতা কর্মীরা তাদের উপর ইট ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের গুলিতে ভ্যানচালক হাফিজুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। জখম হয় ওই বাজারের সাইকেল মিস্ত্রী হারান পাল(৫৫)। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে আটক করা হয় বিএনপি কর্মী গোবিন্দকাটি গ্রামের শাহজদ্দি শেখের ছেলে মনিরুজ্জামানকে (৩২)। সকাল১১ টার দিকে গোবিন্দকাটি যুবদলকর্মীরা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ঝাউডাঙা বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক জাহিদ হোসেনকে (৩০)গোবিন্দকাটি গ্রামে পিটিয়ে জখম কর । তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে নিহত হাফিজুল ইসলামের বাবা লোকমান হোসেন ও মা আছিয়া বেগম দাবি করেছেন তার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য ঝাউডাঙা বাসস্ট্যান্ডে নিজের ভ্যানের উপর বসে ছিল।
এদিকে ক্ষুব্ধ জনতা সোমবার রাতে সদর উপজেলার উত্তর দেবনগর গ্রামের জামায়াত কর্মী মুকুল ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ভাঙচুরের জন্য যৌথবাহিনীর সদস্যদের দায়ী করেছেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, যৌথবাহিনীর উপর হামলা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাফিজুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আটককৃত এক বিএনপি কর্মী মনিরুজ্জামানকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেনকে পিটিয়ে জখম করার কথা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হাফিজুল ইসলামের লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।




