
চাটমোহর (পাবনা) : টানা হরতাল-অবরোধের কারণে পাবনার চাটমোহরসহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে কৃষক চাহিদা মোতাবেক সার পাচ্ছে না। পরিবহন জনিত সমস্যায় সার সরবরাহ না থাকলে ইরি-বোরো আবাদে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশংঙ্কা করছেন কৃষকরা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, সারের চাহিদা ১০ বস্তা থাকলে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১ বস্তা। এজন্য কৃষকদের চাহিদা মোতাবেক সার দিতে পারছি না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও নগরবাড়ীঘাটে সারের স্তুপ বেড়েই চলেছে। নদীর পাড়সহ পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গায় হাজার হাজার বস্তা সার রাখার পর জায়গা না থাকায় বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে।

উপরন্তু বাঘাবাড়ী ও নগরবাড়ীতে সার বোঝাই অর্ধশতাধিক জাহাজ সার খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় রোদ-বৃষ্টি-কুয়াশায় খোলা জায়গায় রাখা সার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি হরতা অবরোধের কারণে কৃষকের কাছে সার না পৌঁছানোয় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সারের দাম বেড়ে গেছে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সার খালাস করতে না পারায় জাহাজ মালিক থেকে শুরু করে বাঘাবাড়ী ও নগরবাড়ী ঘাটের শ্রমিক, পরিবহন ঠিকাদার, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল মোল্লা বলেন, বন্দরের খোলা জায়গা, নদীপাড়সহ কোথাও এখন সার রাখার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে জাহাজ থেকে ট্রাকে করে সার নিয়ে পাশের বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠে সারের বস্তা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, উত্তরাঞ্চলে বিসিআইসির বাফার স্টকের গুদাম রয়েছে মোট ১৪টি। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর নগরবাড়ী ঘাটের মাধ্যমে এসব গুদামে সার সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে বিসিআইসি অনুমোদিত পরিবহন ঠিকাদারেরা সার এনে নগরবাড়ীঘাট ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে নামান। এরপর সেখান থেকে সেই সার ট্রাকে করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
আরোও জানা যায়, হরতাল-অবরোধের মধ্যে নৌপথে সারবাহী জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও নগরবাড়ী ঘাটে ঠিকমতোই ভিড়ছে। কিন্তু সড়কপথ বন্ধ থাকায় সেগুলো কোথাও পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও নগরবাড়ী ঘাটে সারের স্তুপ বেড়েই চলেছে।
সরেজমিন নগরবাড়ীঘাট ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাহাজ থেকে সার খালাস করে নদীপাড়ে ও খোলা জায়গায় রাখা হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে ভিড়িয়ে রাখা হয়েছে সার বোঝাই অর্ধশতাধিক জাহাজ। কয়েকটি জাহাজ থেকে সার নামিয়ে রাখতে দেখা গেলেও তা চলছে ঢিমেতালে।
বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে ভেড়া সার বোঝাই জাহাজ এমভি শাহনেওয়াজের মাস্টার সোহরাব হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এখানে জাহাজ এসে ভিড়ছে। কিন্তু মাল খালাস করা যাচ্ছে না। আমি ৩ ডিসেম্বর এসেছি কিন্তু এখনও সার খালাস করতে পারিনি।
নগরবাড়ী ঘাট বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় সারের জন্য হাহাকার চলছে। অথচ আমাদের এখানে (নগরবাড়ী ঘাট) দুইলক্ষাধিক বস্তা সার খোলা জায়গা ও নদীপাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সার না আসায় উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকাতে সারের অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, ডিএপিসহ সব ধরনের সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।





