এম. এ করিম মিষ্টার, নীলফামারী : ১৮ দলীয় জোটের ডাকা চলমান অবরোধে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় উৎপাদনে ধ্বস নেমেছে। টানা অবরোধে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সঙ্কটে কারখানার ৭টি শপের (উপ-কারখানা) মেরামত কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কারখানায় যাত্রীবাহী বগি ও ওয়াগন মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজই হচ্ছে না। এ সময় কারখানায় ৯১টি যাত্রীবাহী বগি ও ওয়াগন মেরামতের কাজ চলছিল যা থমকে গেছে। কাজ না থাকায় প্রতি কর্মদিবসে দৈনিক প্রায় ৫ হাজার শ্রমঘন্টা অপচয় হচ্ছে। কারখানার মেরামত কাজ সচল রাখতে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরী তারবার্তা পাঠিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২৩টি শপ (উপ-কারখানা)-এর মধ্যে ৭টি শপে বগি ও ওয়াগন মেরামত কাজ করা হয় গ্যাস দিয়ে। গ্যাস নির্ভর এ শপগুলো হলো ক্যারেজ, জেনারেল ওভার হোলিং (জিওএইচ), ক্যারেজ হেভি রিপেয়ারিং (জিএইচআর), ওয়াগন, কামারশাল, বগি ও বয়লার। এসব শপে প্রতিদিন ৩৫৩ ঘনমিটার গ্যাস প্রয়োজন। এর মধ্যে ডিজঅলভ এ্যাসিটেলিন (ডিএ) গ্যাস ২৪০ ঘনমিটার ও অক্সিজেন গ্যাস ১১৩ ঘনমিটার। ওইসব শপের মেরামত কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে রেলওয়ে কারখানার অন্য ১৬টি শপেও। কারকানার ২৩টি শপে কর্মরত রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩শ’ শ্রমিক-কর্মচারি। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দিনের কর্মঘন্টার অর্ধেক সময় তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ অক্সিজেন কোম্পানি হতে নেয়া গ্যাস সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা সরঞ্জাম বিভাগের মাধ্যমে রেলওয়ে কারখানায় সরবরাহ করা হয়। উত্তরাঞ্চলের বগুড়া ও রংপুর সাব-ডিপো থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে সড়ক পথে সরবরাহ করা হয় গ্যাস। অবরোধের কারণে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্যাসের অভাবে কারখানার ওইসব শপের কাজও বন্ধ রয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক গ্যাস সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, এ াবস্থায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি ভেস্তে যেতে বসেছে। তবে কারখানার অন্যান্য কাজ সচল রয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার জরুরী ভিত্তিতে সরবরাহের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




