শেরপুরের শ্রীবরদীর পল্লীতে এক কৃষকের বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামে দরিদ্র কৃষক বাবুল মিয়ার বসতঘরে ওই ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে অগ্নিসংযোগে পরিবারের ৪ সদস্যকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বাবুল মিয়া। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ ডাক-চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন কৃষক বাবুল মিয়ার বসতঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কৃষক বাবুল মিয়া দরজা খুলে বের হতে গেলে ভেতর থেকে বুঝতে পারেন বাইরে থেকে দরজা আটকানো। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় বেড়া ভেঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেরিয়ে জীবন বাঁচান। এরপর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভান। কিন্তু ততক্ষণে ঘরের মালামাল-আসবাবপত্র সবকিছু পুড়ে শেষ।
ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া অভিযোগ করে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ মধ্যরাতে স্ত্রীর চিৎকার শুনে উঠে দেখি ঘরের চারপাশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। দৌঁড়ে দরজা খুলতে গেলে দেখি দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে দরজা আর খুলতে না পেরে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ দিয়ে টিনের বেড়া ভেঙ্গে বাইরে বের হই। আগুনে ঘরে জমানো প্রায় দেড় লাখ টাকা, গোলার ধান, বিভিন্ন আসবাবপত্র, চাউল, কবুতর সব পুড়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা ৫ ভাই ও ৩ বোন। প্রায়ই বোনেরা আমার কাছে পৈতৃক সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে কথা বলে। এ বিষয়ে আমি ভাইদের সাথে আলোচনা করতে গেলে, তারা ওয়ারিশ না দিয়ে উল্টো আমাকে হুমকি দেয়। এছাড়াও গত ইউপি নির্বাচনে তারা ছিল এক চেয়ারম্যানের সমর্থক। আর আমি অন্য চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ করেছি। এ বিষয়েও তারা আমাকে হেনস্থা করেছে।

বাবুলের স্ত্রী কোকিলা বেগম জানান, আমার ২০-২২ বছরের সংসার। দীর্ঘ জীবনে আমার দেবর-ভাসুরেরা আমাকে অনেক অত্যাচার করেছে। অনেকবার মারধরও করেছে। সেই রাতে হঠাৎ শব্দে আমার ঘুম ভাঙ্গে। উঠে দেখি ঘরের দক্ষিণ পার্শ্বে আগুন। এরপর আমার স্বামীকে ডেকে তুলি। আমরা যেন বের হতে না পারি, এজন্য বাইরে থেকে দরজা তালা দেওয়া ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমাদের পরিবারের ৪ সদস্যকে ঘরের মধ্যে পুড়িয়ে মারা।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুলের ছোট ভাই বাদল মিয়া বলেন, আমরা ৪ ভাই কেউ এ কাজের সাথে জড়িত নই। আমরা চক্রান্তের শিকার। সেই রাতে আমি দেখেছি বাবুল তার ঘরের বাইরে। এত রাতে আপনি বাইরে কি করছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বাদল বলেন, আমি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলাম।
ভেলুয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে আমি পরদিন সকালেই ঘটনাস্থলে যাই। বাবুল মিয়ার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ পাইনি। তবে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




