দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর : থানায় আটকে রেখে জোর করে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহসান, উপ-পরিদর্শক রুকনুজ্জামান ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ৪ নেতাসহ ৭জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। উপজেলার ভাটারা এলাকার ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন সবুজ বাদি হয়ে সোমবার এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ৪৫৫। মামলার অপর আসামিরা হলেন সরিষাবাড়ি পৌরসভার কাউন্সিলর কালাঁচান পাল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মন্টু লাল তেওয়ারি, যুবলীগ নেতা আবুল কালাম, ছাত্রলীগ নেতা মুকুল রানা ও দলিল লেখক শাহা আলী। জামালপুর আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিজ্ঞ বিচারক সুলতান মাহমুদ মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে আগামি ২৭ জানুয়ারী/২০১৪’র মধ্যে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ উপ-পরিদর্শক রুকনুজ্জামানের সহযোগিতায় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতা ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন সবুজকে তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোহাগ ব্রিক্স থেকে তুলে নিয়ে থানায় প্রায় ৪ ঘন্টা আটকে রাখে। এসময় তারা ওসির সামনেই সবুজের কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও শারিরীক নির্যাতন চালায়। সবুজের কাছ থেকে জোর করে তারা ষ্ট্যাম্পে ১৪টি স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয় দলিল লেখক শাহা আলীকে ডেকে এনে সবুজ মিয়ার অর্ধকোটি টাকা মূল্যের শিমলা গোপিনাথ মৌজার বিআরএস ২৮৭নং দাগের ২০ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল তৈরি করে।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ওসি একেএম কামরুল আহসান বলেন, ‘ব্যবসায়ী সবুজের মৃত বাবা শাহজাহানের সাথে আওয়ামী নেতা মন্টুলাল ও কালামের বিরোধ ছিল। থানায় সবুজকে ডেকে এনে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে আমার বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারটি আমি লোকমুখে শুনছি।’




