শ্যামলবাংলা ডেস্ক ॥ অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ১০ আসামিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ১৭ আগষ্ট সোমবার বেলা ১১টায় ওই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোকাম্মেল হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগার ফটকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। এরপর র্যাবের হেফাজতে থাকা পুলিশের চার সদস্য এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে তদন্ত কমিটি গণশুনানি শুরু করে। ওই শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে ১১ জনের নাম নিবন্ধন করা হয়। নিবন্ধনকৃত এসব সাক্ষীর মধ্যে নয় জনের সাক্ষ্য নেয় তদন্ত কমিটি।

গত ১২ আগস্ট তদন্ত কমিটির সদস্য কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহজাহান আলী একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি গণশুনানির আয়োজন করে। ওই শুনানিতে অংশ নিতে স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৩ জুলাই সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নুর কক্সবাজার আসেন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। ওইসময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। ২ জনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ওই ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা ও পুলিশের দায়ের করা মামলার ৩ সাক্ষী কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ পুলিশ সদস্য ও ৩ সাক্ষীকে রিমান্ড শুনানি করছে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব। ওসি প্রদীপসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর থাকলেও এখনও তাদের ডাকা হয়নি।




