খাগড়াছড়ি : দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে হালদা নদী জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত স্থান হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হবে। হালদায় মাছের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি প্রকৃতিতে আসবে নতুন প্রাণ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানা গেছে, চট্টগ্রামে হালদা নদী এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। এটির সুপায়ে পানির বদৌলতে প্রতিবছর মা মাছ এখানে অবাধে রেণু (ডিম) ফোটাতে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ফলে মৎস্য ও হালদা নদী প্রেমিরা ‘হালদা নদী রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে নদীটিকে অভয়আশ্রমসহ জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ, হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া থেকে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাসহ নদীর সর্বত্র পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছিল। প্রতিনিয়ত শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে হালদায় মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ফলে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে নদীটিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এবং সর্বশেষ সরকার নদীর ঐতিহ্য রক্ষায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে এ হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার সিন্ধান্ত গ্রহন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি অনুমোদন করার পর আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ঘোষণার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে প্রাণী ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. খলিলুর রহমান হালদার উৎপত্তিস্থলসহ এই নদীর উজান পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী ও উপ-নদীর শাখা-প্রশাখার স্থান ঘুরে দেখেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া আফরোজ-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এরপর চলে যান হালদার উৎপত্তিস্থল রামগড় উপজেলার পাতাছড়া গ্রামে।
হালদা নদী’র গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।




