এস.এম আজিজুল হক, পাবনা : এবার সাম্প্রদায়িক উস্কানীর জের ধরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম হিন্দু পল্লীতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। তিনি ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলেন। এরপর সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও সুধী সমাজের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। এসময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাঁথিয়ার হিন্দু পল্লীর মানুষগুলো আজ কেন জীবনের নিরাপত্তা চায় ? কোন সভ্যতায় নিজ বাস ভূমিতে বসে জীবনের নিরাপত্তা চাইতে হয়? যে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই দেশে সংখ্যালঘুরাতো ত্রাস, শঙ্কা, সংঘাত ও আতংক দেখতে চায় না। বনগ্রামের হিন্দু পল্লীর বৃদ্ধা বিষ্ণু প্রিয়াকে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র ২০১৩ সালে এসে কেন দেখতে হলো ?
তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। তাই মসজিদ যেন উস্কানী দেয়ার জায়গায় পরিণত না হয়। যারা ধর্মের অপব্যবহার করে হিন্দু পল্লীতে আঘাত করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ওই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসনসহ সকলকে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করে বিপন্ন মানুষের কাছে দাঁড়িয়ে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার, মোজাম্মেল হক খান,অধ্যাপক আব্দুদ দাইন, জয়নুল আবেদীন রানা, কার্তিক সাহা, সুশীল কুমার দাস, ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম, কোরবান আলী, আবুল কাশেম, সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।




