স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের ৩টি আসনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণের শুরুতেই প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও দুপুর ২টার মধ্যে ভোটারদের উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়। তারপরও প্রতিটি কেন্দ্রেই ৬০ থেকে ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। এখন চলছে গণনার কাজ। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটের ফলাফলে ৩টি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে ভোট কেন্দ্রে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে দু’টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্র দু’টি হচ্ছে শহরের গৌরীপুর এলাকার জামিয়া আরাবিয়া তালিমুন্নিছা মহিলা মাদ্রাসা এবং সদর উপজেলার সাহাব্দীরচর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ওই দু’টি কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় কেন্দ্রে কর্তব্যরত ২ পুলিশ ও ১০ নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছে সদর থানার কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল আল মামুন। ওইসব ঘটনায় পুলিশ সোহাগ মিয়া (১৯) নামে এক ছাত্রদল কর্মীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীবরদীর পূর্ব ঝিনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে নন্দিরজোত এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে উজ্জল মিয়া (২১) এবং ভাষানী মিয়ার ছেলে রব্বানী মিয়া (২৬) ও পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের ফাতেমা বেগম (৩২) নামে আহত ৩ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, শহরের শেখহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গুজব ছড়ানো ও ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে শেরপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, বিএনপি সমর্থকরা লাঠিসোঠা নিয়ে সাহাব্দীরচর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালটবাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা লাঠিচার্জ করে। বিক্ষুদ্ধ বিএনপি সমর্থকরা ওইসময় মারমুখী হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম আহত আহত হন। শহরের গৌরীপুর এলাকার জামিয়া আরাবিয়া তালিমুন্নিছা মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এতে কনস্টেবল আল মামুন আহত হন।
শেরপুরের ৩টি আসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৬টি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ ৪৫০ জন সেনা সদস্য, ১২৬ জন বিজিবি ও ৫০ সদস্যের র্যাবের টিম মাঠে তৎপর থাকে।




