শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে স্বামীর ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছা. লাভলী খাতুন (৩৮) নামে এক বিধবা নারী। এ ঘটনায় তিনি ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। ১৬ আগস্ট রবিবার রাতে ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ব্রীজপাড় এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন লাভলী খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে লাভলী খাতুন বলেন, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের লয়খা গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪০) ও ছানোয়ার হোসেন ওরফে পেইট (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা তাকে ও তার সন্তানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।
লাভলী খাতুনের অভিযোগ, গত ১৬ আগস্ট দুপুরে তিনি তার জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার চিৎকার শুনে ছেলে-মেয়েরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন লাভলী খাতুন। এ সময় তাকে টানাহেঁচড়া করে পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা এবং গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে যাওয়ার পথে তার মেয়ের জামাইসহ আরও দুই সাক্ষীকেও লয়খা বাজার এলাকায় অভিযুক্তরা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
লাভলী খাতুন জানান, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ও ছানোয়ার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নুর মোহাম্মদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




