ads

শুক্রবার , ৭ আগস্ট ২০২৬ | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নীরবতা কি অভিমান, নাকি এক অদৃশ্য মানসিক নির্যাতন?

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৭, ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ণ

রাগ বা অভিমান হলে অনেকেই চুপ হয়ে যান। ফোন ধরেন না, মেসেজের উত্তর দেন না, সামনাসামনি হলেও এড়িয়ে চলেন। অনেকের কাছে এটি অভিমান প্রকাশের স্বাভাবিক উপায়। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, এই নীরবতা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া, অপরাধবোধে ভোগানো বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটি শুধু অভিমান নয়; বরং ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’ নামে পরিচিত এক ধরনের মানসিক নির্যাতনও হতে পারে।

Shamol Bangla Ads

সম্পর্কে মতবিরোধ, রাগ বা মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বিরোধের সমাধান যদি কথোপকথনের বদলে দীর্ঘ নীরবতায় হয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যোগাযোগ। আর সেই যোগাযোগই যখন ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন তা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

কী এই সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট?

Shamol Bangla Ads

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট হলো এমন একটি আচরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যজনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ফোন, মেসেজ কিংবা সামনাসামনি কথোপকথন—সবকিছু এড়িয়ে গিয়ে তিনি অপর ব্যক্তিকে অনিশ্চয়তা, অপরাধবোধ ও মানসিক চাপে ফেলে দেন।

অনেক ক্ষেত্রে এটি ইমোশনাল ম্যানিপুলেশন বা আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে অন্যজন নিজের কোনো ভুল না থাকলেও নিজেকেই দায়ী ভাবতে শুরু করেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বারবার ক্ষমা চান বা অপর পক্ষের মন জয়ের চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে।

নীরবতার আঘাত কেন এত গভীর?

চুপ থাকাটা বাইরে থেকে অহিংস বা শান্ত মনে হলেও এর মানসিক প্রভাব অনেক গভীর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক কিপলিং উইলিয়ামস, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বর্জন নিয়ে গবেষণা করেছেন, বলেন—কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা বা ‘কোল্ড শোল্ডার’ দেওয়া অনেক সময় শাস্তি দেওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি উপায়। অনেকেই বুঝতে পারেন না, এই আচরণ অন্য মানুষের ওপর কতটা মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।

তার গবেষণায় দেখা গেছে, কাউকে উপেক্ষা করা হলে মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স সক্রিয় হয়, যে অংশটি শারীরিক ব্যথার সময়ও সক্রিয় হয়। অর্থাৎ, প্রিয় মানুষের ইচ্ছাকৃত নীরবতা অনেকের কাছে শারীরিক আঘাতের মতোই কষ্টের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

সম্পর্ক ভাঙার নীরব কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভাঙার সবচেয়ে বড় কারণ সব সময় ঝগড়া নয়; বরং ঝগড়ার পর একে অপরের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগবিষয়ক গবেষক ড. পল শ্রডট ১৪ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত ৭৪টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখেছেন, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি সম্পর্কের সন্তুষ্টি কমিয়ে দেয়, ঘনিষ্ঠতা নষ্ট করে এবং সুস্থভাবে সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তার ভাষায়, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া দ্বন্দ্বের একটি ধরন এবং এটি সম্পর্কের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব নীরবতা কি ক্ষতিকর?

না। সব সময় চুপ থাকা মানেই সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট নয়।

রাগ বা উত্তেজনার মুহূর্তে অনেকেই নিজেকে শান্ত করার জন্য কিছুটা সময় নেন। মনোবিজ্ঞানীরা একে ‘স্পেস নেওয়া’ বলে থাকেন, যা একটি স্বাস্থ্যকর আচরণ।

উদাহরণ হিসেবে কেউ যদি বলেন, “আমি এখন খুব রেগে আছি। একটু সময় চাই। পরে শান্ত হয়ে কথা বলব,” তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক।

কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া, ফোন-মেসেজ উপেক্ষা করা এবং অন্যজনকে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তায় রেখে দেওয়া সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের লক্ষণ হতে পারে।

কেন এমন করেন কেউ কেউ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে না পেরে বা দ্বন্দ্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য চুপ থাকেন। আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সঙ্গীকে শাস্তি দিতে, নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বা অপর পক্ষকে অপরাধবোধে ভোগানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

দীর্ঘদিন চললে কী হতে পারে?

দীর্ঘদিন সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট চলতে থাকলে সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে—

উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।
একাকীত্ব ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে।
সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
কিছু গবেষণায় দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত রাগ এবং কিছু শারীরিক জটিলতার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

প্রথমেই নিজেকে অকারণে দোষারোপ করা বন্ধ করুন।
বারবার ফোন বা মেসেজ দিয়ে অপর পক্ষের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
পরিস্থিতি শান্ত হলে খোলামেলা আলোচনার উদ্যোগ নিন।
স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু নীরবতা দিয়ে শাস্তি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
একই আচরণ বারবার ঘটলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে গুরুত্ব দিন।
প্রয়োজন হলে সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সেলর বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন।

সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি যোগাযোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতবিরোধের সমাধান হয় কথা বলে, নীরব দেয়াল তুলে নয়। অভিমান ভালোবাসারই একটি অংশ হতে পারে, তবে সেই অভিমান যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে কষ্ট দেওয়ার অস্ত্রে পরিণত হয়, তাহলে তা আর ভালোবাসার ভাষা থাকে না।

একটি সুস্থ সম্পর্কে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন থাকে না। সেখানে থাকে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা, সম্মান এবং খোলামেলা যোগাযোগ। কারণ, অনেক সময় উচ্চস্বরে বলা কঠিন কথার চেয়েও দীর্ঘ নীরবতা বেশি আঘাত করে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!