গরু কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্যের শিকার হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা টাঙ্গাইলের এক গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’। মানবিক এই উদ্যোগের জন্য ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার গৌরান এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় গরু ব্যবসায়ী মজনু মিয়া (৪০) সোমবার দুপুরে জামালপুর ব্রিজপাড় এলাকায় গরু কিনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে দুর্বৃত্তরা তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে শেরপুর সদর পুলিশ লাইন সংলগ্ন নবীনগর গোরস্থানের সামনে ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সংগঠনটির সদস্যরা তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। সেই পোস্ট দেখে মজনু মিয়ার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন এবং টাঙ্গাইল থানার পুলিশের মাধ্যমে শেরপুরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মজনু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছালে শেরপুর সদর থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন ও প্রস্ফুটিত শেরপুর সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দেবাশীষ সরকার তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

এ সময় হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ দুই দিন পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে মজনু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




