যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তান ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আজ রোববার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আজ রোববারই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। এই সমঝোতা স্মারক ‘ইলেকট্রনিক্যালি’ বা ‘বৈদ্যুতিন উপায়ে’ স্বাক্ষর করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতারা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে পারেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সব পক্ষের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সূচনা হবে। প্রায় তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি শাসনব্যবস্থার মধ্যে চলা আলোচনার ফল হিসেবেই এই অনলাইন স্বাক্ষরের উদ্যোগ এসেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুরস্ক।
এই সমঝোতা স্মারকটি অঞ্চলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে সম্ভাব্যভাবে স্থিতিশীল করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার পরই আগামী সপ্তাহে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।’

এর অল্প সময় পরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি রোববার অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজ মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লিখেছেন, ‘চুক্তিটি আগামীকাল (রোববার) স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে এবং স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় অনেক ভিন্ন ও উন্নত।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, ‘উপযুক্ত সময়ে যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা (ইরানের) ভেতরে প্রবেশ করব এবং পারমাণবিক ধুলা, যা শক্তিশালী ডুবে থাকা গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে লুকানো, আমাদের সুন্দর বি-২ বোমারু বিমান ও তাদের দক্ষ পাইলটদের সাহায্যে বের করে এনে ধ্বংস করব, তা ইরানে হোক বা যুক্তরাষ্ট্রে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সূত্র জানায়, স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালভাবে হবে এবং এর মূল কারণ হলো লজিস্টিক সুবিধা। এর একটি প্রধান কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি আলোচনাকারী দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁর পক্ষে প্রেসিডেন্টের জি৭ সম্মেলনের জন্য ফ্রান্সে যাওয়ার আগে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা সম্ভব হতো না, এমনটি জানিয়েছে সূত্রগুলো।
মঙ্গলবার ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট জি৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও অংশ নেবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে সময়সূচির কারণে তিনি অংশ নিতে পারবেন না। একইভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
প্রেসিডেন্ট জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্র হবে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অঞ্চলে সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা।
আরেকটি বিষয় আলোচনায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা হলো হরমুজ প্রণালি এবং আন্তর্জাতিক একটি জোট, যেটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স মিলে প্রণালিটি থেকে মাইন পরিষ্কারের জন্য গড়ে তুলতে কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা।




