শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে গাছচাপা পড়ে বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২৩ মে শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার নন্নী পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বেগম ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী।

মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিট স্থায়ী এই টর্নেডোতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে পড়েছে শতশত গাছপালা, বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশত কাঁচা ও টিনশেড ঘরবাড়ি। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সকাল আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে হঠাৎ করেই নালিতাবাড়ীর ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে একটি টর্নেডো বয়ে যায়। আকস্মিক এই টর্নেডোর সময় নন্নী পশ্চিম পাড়া গ্রামে রান্না করছিলেন বৃদ্ধা বেগম। এ সময় একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে গেলে তিনি গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টর্নেডোটি উপজেলার পোড়াগাঁও, নন্নী, রাজনগর, নয়াবিল ও যোগানিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বিশেষ করে যোগানিয়া, নন্নী পশ্চিম পাড়া, নন্নী উত্তরবন্দ, ছাইচাকুড়া ও হাতিপাগার এলাকায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে অন্তত ৫০টি কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চাল উড়ে গেছে। পাশাপাশি শতশত গাছ উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ বলেন, “নন্নী পশ্চিম পাড়ায় গাছচাপা পড়ে বৃদ্ধা বেগম মারা গেছেন।” নন্নী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, “বৃষ্টির সময় আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড শব্দে টর্নেডো শুরু হয়। বাতাসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মনে হচ্ছিল পাকা বাড়িটিও উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ঝড় থামার পর বাইরে বের হয়ে দেখি আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে আছে।”
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, টর্নেডোর ঘটনায় নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, আকস্মিক এই টর্নেডোতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একজন বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নির্ধারণের পর সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




