মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা থাকলেও নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।বৃহস্পতিবার আন্তমন্ত্রণালয় এক ব্রিফিংয়ে জানায়, সারা দেশে এলপিজি, পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড (ডিএসি) ভিত্তিক এলপিজি সরবরাহ প্রায় ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা কালোবাজারি ও সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে সহায়তা করছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে তারা বলেন, অনলাইনে এলপিজি বুকিং শিল্প খাতে প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং কোনো ডিস্ট্রিবিউটরশিপে গ্যাস সংকট বা ‘ড্রাই-আউট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। গত তিন দিনে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ বুকিংয়ের বিপরীতে ১ কোটি ৩৪ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।
পিএনজি ব্যবহারে জোর
সরকার জানিয়েছে, সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের গত মার্চ থেকে গতকাল, অর্থাৎ ২০ মে পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৬৪ হাজার গ্রাহক পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ চালু করা করেছে। MYPNGD.in পোর্টালের মাধ্যমে তারা এই সংযোগ নিয়েছে। আর ৫৮ হাজার ৫০০ জন গ্রাহক এলপিজি সংযোগ ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া আরো ২ লাখ ৮১ হাজার নতুন পিএনজি সংযোগের অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পিএনজি সম্প্রসারণ সংস্কারের আওতায় ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
সরকার সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলোকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পিএনজি সংযোগকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আর নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে সরকার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পিএনজি, বৈদ্যুতিক বা ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

মজুদদারি রোধে কঠোর
ভারত সরকার জানিয়েছে, গত তিন দিনে মজুদদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে সারা দেশে ৫ হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০টির বেশি পেট্রল পাম্প ও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে আকস্মিক পরিদর্শন করেছে। এ পর্যন্ত ৪৬৩টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ৮১টির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, দেশের সব রিফাইনারি উচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও এর প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকার প্রতি লিটারে পেট্রল ও ডিজেলের শুল্ক ১০ রুপি কমিয়েছে।
স্বাভাবিক সামুদ্রিক কার্যক্রম
বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন এবং গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতীয় কোনো জাহাজের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ৩ হাজার ৩১৬ জন ভারতীয় নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যার মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় ফিরেছেন ৯৯ জন। এ ছাড়া দেশের সব বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও জাহাজজট বা বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।




